জন্মের পরপরই শিশুর প্রথম কান্না কি ভালো?

নবজাতক কান্নাকাটি করতে পারে। কান্না করলে ভয় পাবেন না। শিশুরা প্রয়োজনের কথা বলতে পারে না। তাদের প্রয়োজনের ও যোগাযোগের মাধ্যমই হলো কান্না। বেশি কান্নাকাটি করতে থাকলে অবশ্যই চিন্তার বিষয়। অতিরিক্ত কান্না থামানোও অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। খিদে লাগলে, ঘুম এলে, ব্যথা পেলে বা ব্যথা করলে, ভয় পেলে ইত্যাদি কারণে শিশু কাঁদতে পারে।

নবজাতকের কান্না নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই

জন্মের পরপরই শিশুর প্রথম কান্না কি ভালো?জন্মের পরপরই নবজাতকের চিৎকার করে কান্নার ব্যাপারটি স্বাভাবিক ও শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। জন্মের পর নবজাতকের কান্না দেরি করে হলে ধরে নিতে হবে শিশুটি অক্সিজেন পাচ্ছে না। প্রসব-পরবর্তী এক মিনিটের মধ্যে শ্বাস না নিলে শিশুর মারাত্মক ক্ষতি হয়। এ সমস্যাকে বলা হয় বার্থ অ্যাসফিক্সিয়া।
খিদেশিশুর কান্না শুনে প্রথমেই যে ধারণাটি করা হয় তা হলো শিশুর খিদে লেগেছে। সদ্যোজাত শিশুর কিছু লক্ষণ দেখে এটা বোঝা যায়। যেমন—অস্থির হয়, ঠোঁট কামড়ায়, গালে হাত লাগানো হলে তাদের মাথা হাতের দিকে ঘোরায় এবং নিজের হাত মুখে দেয়।
ডায়াপার নোংরা হলে
কিছু শিশু ডায়াপার নোংরা হলেই অস্বস্তি প্রকাশ করে ও কাঁদে। আবার কিছু শিশু এটা অনেকক্ষণ সহ্য করতে পারে। তবে ডায়াপার নোংরা হলেই তা তৎক্ষণাৎ পাল্টানো উচিত। অনেক সময় ডায়াপার ব্যবহারে র্যা শ হতে পারে। যার কারণেও বাচ্চা কান্না করতে পারে। তাই ডায়াপার যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভালো।
ঘুমের জন্য
যখন শিশু ক্লান্ত হয়, তখন ঘুমের প্রয়োজন হয়। আর তখনই শিশু কাঁদে, মাথা নাড়ে ও অস্থির হয়।
মা-বাবার সান্নিধ্য চায়
শিশুরা আদরপ্রিয়। তারা মা-বাবার মুখ দেখতে চায়, তাঁদের কণ্ঠ শুনতে চায়, তাঁদের হৃৎস্পন্দন শুনতে চায়। এমনকি তাঁদের শরীরের আলাদা গন্ধও তারা চিনতে পারে। শিশুর যখন মা-বাবার সান্নিধ্য প্রয়োজন হয়, তখনো কাঁদতে পারে।
পেটের সমস্যা হলে
প্রথম তিন মাস শিশুরা সাধারণত ইনফ্যান্টাইল কলিগে ভোগে। হঠাৎ করেই খাদ্যনালি কাজ শুরু করে বলে সাধারণত এমন ব্যথা হয় বলে অনেক সময় শিশুরা কেঁদে থাকে। শিশু যদি পেটের কোনো সমস্যায় ভোগে তাহলে অনেকক্ষণ ধরে কান্না করতে থাকে। যদি খাওয়ার পরপরই শিশু কাঁদে তাহলে বুঝতে হবে যে পেটব্যথার জন্য কাঁদছে। আর শিশুকে খাওয়ানোর পর ঢেকুর তোলালে পেটের গ্যাস অনেকাংশে ভালো হয়ে যায়।
ঠান্ডা বা গরম লাগলে
ন্যাপি পরিবর্তন করার সময় তার জামা খোলেন এবং ঠান্ডা ও ভেজা টিস্যু দিয়ে মোছেন, তখন সে ঠান্ডা অনুভব করে বলে কাঁদে। শিশুরা গরম ও ঠান্ডা উভয়ই অপছন্দ করে।
এ ছাড়া হঠাৎ জোরে কোনো শব্দ শুনলে, ব্যথা পেলে বা ভয়ের কিছু দেখলে, নতুন পরিবেশে গেলে, নতুন মানুষ দেখলেও শিশু কান্না করতে পারে।
কখন চিন্তার কারণ?
যদি বাচ্চা কাঁদতেই থাকে, তবে প্রথমেই দেখে নিন বাচ্চার শরীরে জ্বর আছে কি না। তার কোনোভাবে ঠান্ডা লেগেছে কি না। অনেক সময় শিশুর কানে ব্যথা, মুখে ঘা, মস্তিষ্কে প্রদাহ হলে খুব কান্নাকাটি করে থাকে। তবে এসবের সঙ্গে জ্বর থাকবে। এমন হলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।