ব্যাথা কমাবে টেপ ।

চলছে অলিম্পিক। চ্যানেলে চ্যানেলে দেখছেন বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের তাক লাগানো পারফরম্যান্স। এর মধ্যে একটি বিষয় কি খেয়াল করেছেন? বিষয়টি হলো ‘টেপ’। অলিম্পিকের অনেক খেলোয়াড়ই শরীরের বিভিন্ন অংশে টেপ লাগিয়ে অংশ নিচ্ছেন নানান ইভেন্টে। কেন তাঁরা টেপ লাগাচ্ছেন শরীরে? স্টাইল করার জন্য? আসলে এর রহস্য কী?

জিনিসটির নাম আসলে কিনেসিও টেপ। প্রচণ্ড আঠালো, অ্যালার্জিরোধক ও প্রসারণশীল। পাওয়া যায় বিভিন্ন রঙে ও প্যাটার্নে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে করে ত্বকের ওজন, পুরুত্ব অনুমান করে শরীরের যেকোনো অংশ প্রসারিত হতে পারে। কটন ফাইবার দিয়ে তৈরি কিনেসিও টেপ তাপ-সক্রিয় ও শরীরের সঙ্গে পাঁচ দিন পর্যন্ত লেগে থাকতে পারে। শরীরের সঙ্গে লেগে থাকা অবস্থায় এটি ত্বকের ওপরের অংশ থেকে ভেতরের মাংসপেশির মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি করে। এর ফলে শরীরের আক্রান্ত স্থান ব্যথা ও চাপমুক্ত থাকে।
কিনেসিও টেপ ব্যবহারে খেলোয়াড়দের শরীরের আক্রান্ত স্থান ব্যথা ও চাপমুক্ত থাকে
কিনেসিও টেপ উদ্ভাবন করেন আকুপাংচারিস্ট ও ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ডক্টর কেনজো কেস। ১৯৭০ সালে উদ্ভাবন করলেও ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে এটি সবার নজর কাড়ে। এর পরপরই টেপটির জনপ্রিয়তা বেড়ে যায় একলাফে। এখন এটি খেলাধুলার জগতে অতিপরিচিত ও প্রয়োজনীয় এক নাম। তবে যখন-তখন সবার এটি ব্যবহার না করাই ভালো। শরীরের কোন অংশে কীভাবে লাগাবেন, তারও কিছু কলাকৌশল আছে। দক্ষ হাত ছাড়া এটি লাগালে হিতে-বিপরীত হতে পারে।
২০১২ সালে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাজ্যে অবস্থিত কিনেসিও টেপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কেভিন অ্যান্ডারসন রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এটি জাদুকরি কিছু নয়।
জার্মান বিচ ভলিবল খেলোয়াড় সারা গোলার উজ্জ্বল গোলাপি রঙের কিনেসিও টেপ পরেছিলেন ২০১২ সালের লন্ডন গেমসে
খেলোয়াড়দের দক্ষতা বাড়ানো বা সুপারম্যান করে তোলাও এটার কাজ নয়। কিন্তু এটা খেলোয়াড়দের ব্যথা ও শরীরের ফোলা ভাব থেকে মুক্ত করবে।’
জার্মান বিচ ভলিবল খেলোয়াড় সারা গোলার ২০১২ সালের লন্ডন গেমসে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের কিনেসিও টেপ পরেছিলেন। রংটি সুন্দর, তবে সেটার কার্যকারিতাই মুখ্য বলে জানান তিনি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, এটা মাংসপেশি প্রসারিত করা বা চাপমুক্ত করার কাজটি করে। নির্ভর করবে আপনি কী চান।
ধরা যাক, টেপটি শারীরিকভাবে কোনো উপকার করছে না। মজার বিষয় হলো এটি ব্যবহারে খেলোয়াড়েরা মানসিকভাবে শক্তি ও বিশ্বাস পান! তাঁরা মনে করেন, এটি তাঁদের শরীরে ম্যাজিকের মতো কাজ করে! অলিম্পিকের মতো আসরে এটাই বা কম কিসে!
Previous
Next Post »