এরদোয়ানের তুরস্ক: আবেগ বনাম বাস্তবতা

গত ১৫ই জুলাই তুরস্কে একটি “৬ ঘন্টার ব্যর্থ সেনা
অভ্যুত্থান” ঘটে গেল। তার উত্তেজনায় আবেগাপ্লুত
ধর্মপ্রেমী মানুষেরা নানান কথা লিখছেন
অনলাইনে। ভোররাতে ফজর হবার আগেই সব মসজিদ
থেকে আজান দিয়ে মানুষকে রাস্তায় নেমে আসতে
বলা হয়েছে, আর এরদোয়ান সমর্থকেরা আল্লাহু
আকবার শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন,
সেইসাথে এরদোয়ান মিডিয়াতে কান্না করেছেন —
ব্যস, আর কী লাগে! এতেই তা হয়ে গিয়েছে
“ইসলামী বিপ্লব” এবং এরদোয়ান হয়েছেন “মহান
ইসলামী খলিফা”।
এরদোয়ান কে? তার বেড়ে ওঠা কিভাবে?
রাজনীতিতে প্রবেশ কিভাবে? তার রাজনৈতিক
জীবনের ইতিহাস কী? তার রাজনৈতিক গুরু
নাজমুদ্দিন এরবাকানেই বা ইতিহাস কী? গুরুর
ইসলামী দল ছেড়ে সেকুলার একেপি গঠন কেনইবা
করলেন এরদোয়ান? শিষ্যের ব্যাপারে গুরুর মন্তব্য
কী ছিল? সবচেয়ে বড় কথা, বিগত ১৪ বছরের
শাসনামলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে
এরদোয়ানের কর্মকাণ্ড কী ছিল?
এরদোয়ানকে মহান মুসলিম নেতা বলার আগে এসবের
উত্তর জানা থাকা দরকার। কিংবা তুরস্কের সেনা
অভ্যুত্থান দমন দেখে ধর্মীয় আবেগে আপ্লুত হবার
আগে এরদোয়ানের ইতিহাসটা একটু জানা দরকার।
কেবল এরদোয়ানের ফজরের আজান দেয়া, আর নানান
“ইসলামী কথা” শুনে সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়।
রেশমা উদ্ধারের সময় এমনকি বাংলাদেশ আর্মিও
আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিয়েছিল। তারমানে এই
না যে বাংলাদেশ আর্মি হঠাৎ করে কাজকর্মে
ইসলামিক আর্মি হয়ে গিয়েছে কিংবা
বাংলাদেশের নেত্রী কুরআনের আইন বাস্তবায়নের
দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। রেশমা নাটকের পর অনেকের
কাছেই এটা পরিষ্কার যে, “আল্লাহ আকবার”
জিনিসটা মানুষের সেন্টিমেন্ট গ্রো করতে খুব
কাজে লাগে। ধর্মব্যবসা যাকে বলে আরকি।
একটি আনাড়ি সেনা অভ্যুত্থান হয়েছে, যেকোনো
বিশ্লেষক তা স্বীকার করবেন। সাধারণতঃ সেনা
অভ্যুত্থানে প্রথমেই প্রেসিডেন্টসহ যে ব্যক্তিদের
আটক করা হয় ও যে স্থাপনাগুলোর দখল নেয়া হয়,
তুরস্কের সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানটি তেমন ছিল না।
যাহোক, সেনা অভ্যুত্থান এরদোগানের ইচ্ছায়ই হোক
কি অনিচ্ছায়ই হোক, এটাকে তিনি সুযোগ হিসেবে
ব্যবহার করেছেন: বরাবরের মত ধর্মীয়
সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করেছেন, এবং নিজের ক্ষমতা
পাকাপোক্ত করতে বিরোধীদের উপর চড়াও
হয়েছেন। লিস্ট রেডিই ছিল, তিনি সম্ভবতঃ কেবল
অপেক্ষা করছিলেন সেনা অভ্যুত্থানের। পরবর্তী ৪৮
ঘন্টার ভিতরে প্রায় ৩,০০০ বিচারককে বরখাস্ত
করে বন্দী করার আদেশ দিয়েছেন তিনি। ৫০,০০০
সরকারী কর্মচারীকে সাসপেন্ড করেছেন। ১৫,০০০
শিক্ষককেও সাসপেন্ড করেছেন, ২১,০০০ শিক্ষকের
লাইসেন্স বাতিল করেছেন। সকল ইউনিভার্সিটির
ডিনকে চাকরিচ্যুত করেছেন (মোট ১৫৭৭ জন)। এদের
সবার উপরেই তিনি চড়াও হয়েছে “এরদোয়ান-
বিরোধী নেতা গুলেন” এর সাথে জড়িত থাকার বা
সমর্থন করার অভিযোগে। নিরেট স্বৈরাচারের
মতন তোয়াক্কা করেননি কোনো আইন আদালতের।
সোশাল মিডিয়ায় এরদোয়ানকে ইনসাল্ট করায়
দুইজনকে অ্যারেস্ট করা হয়েছে। অতীতেও তিনি
একাজ করেছেন। ২৪টা রেডিও-টিভি চ্যানেলের
লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ছয় ঘন্টার
অভ্যুত্থান “নিয়ন্ত্রণে এনেই” এরদোয়ান খুশিতে
বলে ফেলেছেন, “এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত,
সব জায়গায় শুদ্ধি অভিযান চালানোর সুযোগ
এসেছে।”
আমার মনে পড়ছে ২০১৩-১৪ সালের কথা।
বাংলাদেশে বেশকিছু ইভেন্টে নাটকীয়ভাবে
অনেকগুলো টিভি চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেল, বন্ধ হয়ে
গেল পত্রিকা — আদালতের কোনোরূপ আদেশ ছাড়াই।
এমনকি জামাত-শিবিরের প্রতিবেশী হবার দোষেও
মানুষ অ্যারেস্ট হতো — এতটাই গণগ্রেফতার
চলেছিল। ইসলাম সংশ্লিষ্টতা পেলেই অ্যারেস্ট
করা হতো তাকে — হোক সে ইসলাম সরকারের জন্য
ক্ষতিকর কী ভালো। সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান
বিনা বিচারে বন্দী… আরো কত মানুষ…। আমি বুঝি
না, সেই জামাত-শিবিরই কিভাবে এরদোয়ানের মত
এত বড় স্বৈরশাসকের সমর্থক যে, তারা একে “মহান
ইসলামী নেতা” বলে উত্তেজনায় কেঁদে দিচ্ছে! আর
কেউ যদি এরদোয়ানের অপকর্মগুলি তুলে ধরছে,
তাকে গালি দিয়ে হেনস্থা করে শেষ করে দিচ্ছে!
আমিতো দেখতে পাচ্ছি, জামাত-শিবিরের প্রতি
শাহবাগীরা যে অযৌক্তিক অসভ্য আচরণ করেছিলো,
এরদোয়ান বিরোধীদের উপর জামাত-শিবির ঠিক
একই মেন্টালিটি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
শাহবাগীদের মোকাবিলায় তারা খুবই যৌক্তিক
মানুষ: তথ্যভিত্তিক-ইতিহাসভিত্তিক কথা বলে
ইন্টারনেটে বন্যা বইয়ে দিয়েছে — অথচ এখন যখন
এরদোয়ানের কর্মকাণ্ডের তথ্যভিত্তিক যৌক্তিক
সমালোচনা করা হচ্ছে, তখন তারা ঠিক
শাহবাগীদের মত অযৌক্তিক অসভ্য আচরণ করছে।
এরা যখন জুলুমের শিকার হয় তখন মায়াকান্না
কাঁদে, কিন্তু সুযোগ পেলে এরাই বড় জালিম হয়ে
ওঠে! এরদোয়ানের মত বড় জালিমের সমর্থনে তারা
নিজেদের ভদ্রতা, ইসলামী আদব-আখলাক্ব সব
হারিয়ে ফেলেছে! আল্লাহ না করুন এরদোয়ান
সমর্থকেরা যদি এদেশে কখনো ক্ষমতায় আসে, তবে
ইসলামের শত্রুরা নয়, বরং আমাদেরকে সাইলেন্ট
করবে এরাই — “ইসলামপন্থীরা”!
লেখায় চিন্তাশীল মানুষদের জন্য কিছু বাস্তব তথ্য
রেখে যেতে চাই। তার আগে একটু ভূমিকা:
১৪ বছরের শাসনকালে এরদোয়ান ইসলামের জন্য
পজিটিভ যে কাজগুলি করেছেন, শুধু সেগুলির
কারণেই তাকে অত্যন্ত পছন্দ করা যেত (কেননা
তুরস্কের torn ব্যাকগ্রাউন্ডে এটুকু করাই খুব
কঠিন), কিন্তু তিনি যখন আবার ইসলামবিরোধী
কাজও করেন, তখন বিষয়টা অন্যরকম হয়ে দাঁড়ায়।
তখন বোঝা যায় যে, তিনি ইসলামকে কেবল নিজ
স্বার্থে ব্যবহার করেছেন ও করছেন। অবশ্য শত শত
বছরের মুসলিম ইতিহাসে নানান “খলিফা” একাজই
করে এসেছে এবং মুসলিম জাতিকে বোকা
বানিয়েছে। তাদের “ইসলামের খেদমত” দেখে
সাধারণ জনগণ খুশি থেকেছে; একদিকে জনগণকে
খুশি রেখে অপরদিকে তারা নিজেদের বাদশাহী ও
ক্ষমতার লোভ চরিতার্থ করেছে। এরদোয়ানও যে
তেমন একজন ব্যক্তি, সেটা উনার “ইসলামিক” ও
“অনিসলামিক” কর্মকাণ্ডগুলোকে পাশাপাশি আনলে
বোঝা যায়। অবশ্য যারা আগে থেকেই তাকে মহান
ইসলামী নেতা ভেবে আবেগাপ্লুত হয়ে আছে, তারা
এরদোয়ানের শত ইসলামবিরোধী কাজকেও সিম্পলি
“হেকমত” লেবেল দিয়ে জাস্টিফাই করে দেবে। সে
ভিন্ন কথা। এতদসত্ত্বেও লিখছি, কেননা
ইনফরমেশান হাইওয়েতে সঠিক তথ্য রেখে
যাওয়াটা দায়িত্ব। যারা লেখায় অসংস্কৃত
(uncultured) আচরণ করে, তারাই একমাত্র পাঠক
না, এবং তাদের রিঅ্যাকশনই একমাত্র রেসপন্স
না। অনেক সত্যানুসন্ধানী নিরপেক্ষ মানুষ আছেন,
যারা নীরবে সবকিছু দেখেন, শোনেন, পড়েন,
অতঃপর যাচাই করে সত্যটুকু গ্রহণ করেন। এভাবে
সত্যের সংস্পর্শে অনেক অজানা অচেনা মানুষের
মাঝে নীরব বিপ্লব ঘটে যায়, যা আমরা জানতেও
পারি না।
যাহোক, এরদোয়ান ইসলামবিরোধীও নন,
ইসলামপন্থীও নন। বরং তিনি একজন ক্ষমতালোভী
স্বৈরশাসক, যিনি ইসলামকে তার ক্ষমতার স্বার্থে
ব্যবহার করেন। এরদোয়ানের এককালের গুরু এবং
তুরস্কের ইসলামী নেতা নাজমুদ্দিন এরবাকান
বলেছিলেন, “এই তাইয়্যেব মানুষ হ! এমন এক
রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করছিস যেটা দিয়ে শুধু
প্রবেশই করা যায় বের হওয়া যায় না।‘’ আর
এরদোয়ান বলেছিলেন, ‘’আমি আজ থেকে আমার
পূর্বের পোশাকটি (ইসলামী আন্দোলনের পোশাক)
খুলে ফেললাম।’’
এই এরদোয়ান স্কার্ফের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে
নেবার কথা নির্বাচনী ইশতেহারে রেখেছিলেন,
কেননা সেটা করলে পপুলারিটি বাড়বে (যদিও পরে
সংবিধানে তা বাস্তবায়ন হয়নি)। মিশরের আসমা
বেলতাগির জন্য টিভিতে কাঁদলে পপুলারিটি
বাড়বে, তাই তিনি কেঁদেছেন। আজান দিলে ভিডিও
পাবলিশ হলে পপুলারিটি বাড়বে, তাই সেটা
করেছেন। ইসরাইলের বিরুদ্ধে গরম গরম কথা বললে
পপুলারিটি বাড়বে, তাই তিনি ইসরাইলকে খুনী,
ইত্যাদি বহু কিছু বলেছেন। ফিলিস্তিনের পক্ষে
কথা বলেছেন তিনি সেই একই উদ্দেশ্যে —
পপুলারিটি বৃদ্ধি। কিন্তু এসব শুধুই কথা। এসব
“ইসলামী আবেগ” তিনি বাইরে দেখান কেবলই
পপুলারিটি বৃদ্ধির জন্য। হ্যাঁ, এই কথা আজকে
বলতাম না, কিন্তু তিনি নিজেই কাজে প্রমাণ করে
দিয়েছেন, ইসলামের জন্য উনার “যাকিছু অবদান”,
তার সবই হলো শুধু কথা। আর কাজে যা হয়েছে তার
সবটাই হয়েছে উনার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার
জন্য, আর সেজন্যে ইসলাম ও মুসলিমদের শত ক্ষতির
দিকে ঠেলে দিয়েছেন তিনি।
যদিও একে পার্টি বরাবরই সেকুলার ছিল, এবং
কখনো বলেওনি যে “আগে ক্ষমতায় গিয়ে পরে
কুরআনের সংবিধান কায়েম করবে” (যেটা জামাত-
শিবির বলে থাকে), তবুও এদেশে এরদোয়ান
সমর্থকেরা কিভাবে যেন এরদোয়ানের মনের কথা
জানেন, এবং এরদোয়ানের সকল ইসলামবিরোধী
কর্মকাণ্ডকে “হেকমত” বলে জাস্টিফাই করেন
এভাবে যে: এগুলো কৌশল, পরে এরদোয়ান ঠিকই
কুরআনের সংবিধান কায়েম করবেন। কী অদ্ভুত
স্বপ্নের দেশে এদের বসবাস!
তারা কি দেখে না যে, কাজের বেলায় তিনি তার
প্রস্তাবিত ভিশন ২০২৩ এর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
আর সেখানে শুরুতেই যে লক্ষ্য আছে তা হলো: “২০২৩
সালের মধ্যে EU (ইউরোপীয় ইউনিয়ন) এর সদস্যপদ
পাবার সকল শর্ত পূরণ করা।” কেন ইইউ মেম্বারশিপ
পাবার এই আগ্রহ? আর কিছুই না, অর্থনৈতিকভাবে
শক্তিশালী দেশে পরিণত হওয়া। আর সে লক্ষ্য
পূরণের জন্য ক্ষমতায় আসার এক বছরের মাথায়
মৃত্যুদণ্ডকে স্থায়ীভাবে রহিত করা হলো তুরস্কের
সংবিধানে। কুরআনের সংবিধানের দিকে এগোচ্ছেন
এরদোয়ান? মৃতুদণ্ডকে অমানবিক হিসেবে নিষিদ্ধ
করা কি কুরআনের সংবিধানের দিকে আগানো, নাকি
তাগুতের সংবিধানের দিকে আগানো?
এরদোয়ান সমর্থকেরা নানাভাবে যুক্তি দেন যে,
কামাল আতাতুর্কের রেখে যাওয়া সেকুলার
সংবিধান ও সেকুলার রাষ্ট্রে ইসলামী আইন হুট
করে আনা যায় না, তাই এরদোয়ান ধীরে ধীরে
অগ্রসর হচ্ছেন। মৃত্যুদণ্ড তো কুরআনের বিধান, যা
তুরস্কের সেকুলার কামাল আতাতুর্কও বাদ দেননি।
এরদোয়ান সেটা নিষিদ্ধ করে কি কুরআনের আইনের
দিকে এগিয়ে গেলেন?
“ইউরোপিয়ান কনভেনশন অন হিউম্যান রাইটস”
মানতে গিয়ে তিনি সমকামিতাকে স্বীকৃতি
দিয়েছেন, “সমকামী অধিকার” দিয়েছেন — এটা কি
কুরআনের আইনের দিকে যাওয়া? নাকি তাগুতের
দিকে যাওয়া? মানুষ কি বোঝে না? এরদোয়ান ভক্ত
আবেগাপ্লুত ইসলামিস্টরা কি বোঝে না যে,
“ইউরোপিয়ান হিউম্যান রাইটস” মানতে গেলে
ইসলামের অনেক বিধানকেই ছেড়ে দিতে হবে?
ওদের “হিউম্যান রাইটস” আর আমাদের আল্লাহ
প্রদত্ত অধিকারগুলো এক নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে
সাংঘর্ষিক?
নাকি এরদোয়ান ইইউতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে প্রথমে
অর্থনৈতিকভাবে তুরস্ককে শক্তিশালী করবেন,
তারপর ইইউ থেকে বের হয়ে ইসলামী সংবিধান
কায়েম করবেন? নাকি এরদোয়ানের তুরস্ককে ধরে
রাখতে ইইউ এর সংবিধান বদলে সেখানে কুরআনের
আইন অন্তর্ভুক্ত হবে?
এ-ই কি ইসলাম, এ-ই কি রাসুলের দেখানো পথ?
(ইহুদী-নাসারাদের সাথে এরদোয়ানের দহরম
মহরমের বহুত ছবি আছে, ছবি আছে মেয়েদের সাথে
“ইসলামী” এই নেতার হ্যান্ডশেক করার, “পানীয়”
পান করার, বেপর্দা গায়িকাদেরকে পাশে নিয়ে
বসে “ইফতার” করার। আমি জানি এসব ছবি অতি
সহজে মানুষকে প্রভাবিত করে। কিন্তু আমি চাই
আবেগ নয়, বরং তথ্যভিত্তিক যুক্তির মাধ্যমে
মানুষের কাছে সত্যটি পৌঁছে যাক।)
জনপ্রিয়তা পাবার জন্য মুখে ইসরাইলকে খুনী বলা,
আর তলে তলে বাণিজ্যিক-সামরিক সম্পর্ক শনৈঃ
শনৈঃ বৃদ্ধি করা, নির্বাচনের আগে স্কার্ফসহ
নানান ইস্যুতে ইসলামের বুলি আউড়ানো আর কাজের
বেলায় খ্রিষ্টনদের সংঘ EU এর মেম্বার হতে
সমকামিতাকে বৈধ করা, মৃত্যুদণ্ডকে নিষিদ্ধ করা,
বাংলাদেশে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের পরে
রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়ে জামাত-শিবিরের অন্ধ
ভক্তি কিনে নেয়া, অপরদিকে সিরিয়াসহ
দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সন্ত্রাসী সংগঠন ISIS-
কে লালন পালন করে বড় করে তোলা, কুর্দিদের
উপরে নির্যাতন চালানো আর কিছু হলেই ন্যাটোর
কোলে দৌড়ে গিয়ে ওঠা — আর ক্যামেরায় এসে
এজিদের মত চোখের জল ফেলা — আর কত, আর কত?
এ-ই কি ইসলাম! জানি, এতকিছু জানার পরও
এরদোয়ানের অন্ধ ভক্তিতে আবেগাপ্লুত ধর্মপ্রাণ
মানুষেরা ফ্যালাসি করবেন, গালমন্দ করবেন,
কিংবা বড়জোর সব যুক্তি একহাতে ঠেলে সরিয়ে
বলবেন: “ইহা হেকমত”। কিন্তু আপনারা কি নামাজে
দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে বলতে পারবেন, হে আল্লাহ,
এরদোয়ান সমকামিতাকে বৈধ করেছে, মৃত্যুদণ্ডকে
নিষিদ্ধ করেছে, মুসলিম হত্যাকারী ইহুদীদের
সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বন্ধুত্ব করেছে — তুমি এগুলো
পছন্দ করো! বলতে পারবেন? আল্লাহর কাছে
আপনারা কী বলেন নামাজে দাঁড়িয়ে? আমার জানতে
ইচ্ছা করে!

আরো অনেক কথা বলা যেত, কিন্তু আজ এটুকুই থাক।
তুরস্কের জনগণকে ভালো রাখতে পারার কারণে
এরদোয়ান সেখানে জনপ্রিয় হলেও, আন্তর্জাতিক
রাজনীতিতে তিনি কেবল ইসলাম ও মুসলমানদের
ক্ষতিবৃদ্ধিই করে চলেছেন। এরদোয়ানের এহেন
মুনাফেকি প্রসঙ্গে নাজমুদ্দিন এরবাকান সরাসরি
বলেননি, বলেছিলেন ইঙ্গিতে, কিন্তু আজকে বেঁচে
থাকলে তিনি হয়ত সরাসরিই বলতেন, এবং আমরাও
তেমনটা মনে করি। এমন ধুরন্ধর ধর্মব্যবসায়ী
স্বৈরাচারের হাত থেকে আল্লাহ এই পৃথিবীকে আর
সহজ-সরল সাদাসিধা মুসলমানদেরকে হেফাজত করুন,
এটাই কামনা।

Previous Post
Next Post