পবিত্র ঈদুল আজহা ১৩ সেপ্টেম্বর ।


কোরবানিদেশের কোথাও আজ পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। আগামীকাল শনিবার জিলকদ মাসের ৩০ দিনে পূর্ণ হবে। জিলহজ মাস শুরু হবে আগামী রোববার থেকে। সেই হিসাবে ১৩ সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে। আরবি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হয়।
আজ শুক্রবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জিলহজ মাস রোববার শুরু হওয়া সাপেক্ষে ১৩ সেপ্টেম্বরে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ইদ মোবারাক । ইদ মোবারাক । ইদ মোবারাক । এই আনন্দ দিনের দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে কোরবানি। কোরবানি কিভাবে দিতে হবে? আমরা কি শুধু পশুর গোশত খাওয়ার জন্য কোরবানি দেবো? আমরা কি পশু কোরবানি দিতে পেরেই আনন্দিত বা তৃপ্ত? কিন্তু আল্লাহ বলেছেন আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওদের গোশত এবং রক্ত বরং আল্লাহর কাছে পৌঁছায় তাকওয়া। (সূরা হজ-৩৭) আরবি কুরব শব্দ থেকে কোরবানি উদ্ভূত। এর অর্থ হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা। আমরা কিভাবে তাঁর নৈকট্য অর্জন করব? কোরবানি দেয়ার সামর্থ্যবান ব্যক্তিই কোরবানি দেবেন। এটা তার জন্য ওয়াজিব। এই ওয়াজিব পালন করতে গিয়ে কী কী নিয়ম পালন করবেন তিনি? আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে হলে অবশ্যই তাকওয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে। তাকওয়ার শর্তগুলো নিম্নরূপ হতে পারে ১. একদম নিবেদিতপ্রাণ হয়ে পশু কোরবানি দিতে হবে। এতে অর্থের বাহাদুরি চলবে না। লোকের বাহবা অর্জনের প্রচেষ্টা চলবে না। কিংবা লোকলজ্জায় পড়ে কোরবানি দেয়া চলবে না। ২. কোরবানির গোশত নিজের ইচ্ছেমতো রাখা যাবে না। আল্লাহর নির্দেশিত নিয়ম হচ্ছে কোরবানিদাতা কোরবানির গোশত সমান তিন ভাগ করবে। এক ভাগ নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য রাখবে, এক ভাগ দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের কাছে পৌঁছাতে হবে। বাকি এক ভাগ দরিদ্র যাদের আত্মীয়স্বজনও নেই তাদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে কোরবানি কবুল হবে না। ৩. কোরবানি অবশ্যই আল্লাহর নামে দিতে হবে। মানুষ এভাবেই তাকওয়ার পবিত্রতায় শামিল হতে পারবে। যার কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই দুই রাকায়াত ঈদের নামাজ পবিত্র নিয়তে আদায় করতে পারলেই তার তাকওয়া অর্জিত হয়ে যাবে। পরিবার-পরিজনের মন খারাপের ভয়ে কিংবা সমাজে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে কেউ যদি কোরবানি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তার প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হন না। আল্লাহ তো তার জন্য ঈদের নামাজেই আনন্দ-সওয়াব নির্ধারিত করে দিয়েছেন। তবে কেন কোরবানির চিন্তা।’ তাই তার জন্য কঠোর নির্দেশ হচ্ছে। ১. কোরবানির সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্যই তাকে কোরবানি দিতে হবে। ২. কোরবানির পশু হারিয়ে গেলে আবার পশু কিনে কোরবানি দিতে হবে। ৩. প্রথম পশু ফিরে পেলে একই সাথে উভয় পশু কোরবানি দিতে হবে। নইলে তার কোরবানি গৃহীত হবে না। এ বিধান এ জন্য যে, যিনি কোরবানি দিচ্ছেন স্রেফ সামাজিকতার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নয়। এ জন্য সূরা হজের ৩৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা তাকওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য যত বার থাকবে তত বারই প্রতি ঈদে কোরবানি দিতে হবে। কোরবানি সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করে বলেছেন ‘আমি প্রত্যেক উম্মতের (নবীর উম্মত) জন্য কোরবানি ফরজ করেছি যাতে চতুষ্পদ জন্তু জবেহ করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। (হজ-৩৪) কোরবানি শুরু হয় মানব জাতির ঊষালগ্ন থেকে। আদম সন্তান হাবিল ও কাবিল সর্বপ্রথম কোরবানি দেয়। উভয় ভাইয়ের বিবাহ সম্পর্কিত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে কোরবানির নির্দেশ হয়। যার কোরবানি কবুল হবে সে হবে বিজয়ী। এই নির্দেশ পালনার্থে উভয়ে কোরবানি দিলেন। কিন্তু কাবিলের কোরবানি কবুল হলো না। কবুল হলো হাবিলের কোরবানি। কারণ হাবিল ছিলেন ন্যায়ের পক্ষে। আদিকালে কোরবানি কবুল হলে আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে কবুলকৃত কোরবানি দগ্ধ করে ছাই করে দিত। ফলে তৎকালে কোরবানি কবুল হওয়া না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যেত। (মারেফুল কুরআন) হজরত নূহ আ: পর্যন্ত এই নিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। (দারিয়াতুল মা’আরিফ) প্রাচীনকালে আরবে আতিয়া ও ফারা নামক এক বিশেষ ধরনের কোরবানির কথা জানা যায়। কোরবানির নতুন প্রথা চালু হয় হজরত ইবরাহিম আ:-এর আমল থেকে। তার সময়কাল থেকে কোরবানির গোশত আর পুড়িয়ে ফেলা হয় না। দুস্থ লোকদের মধ্যে তা বিলিয়ে দেয়ার নিয়ম চালু হলো। হজরত ইবরাহিম আ:-এর কোরবানি ছিল তাকওয়ার এক অগ্নিপরীক্ষা। তিনি প্রথমে স্বপ্নে আদিষ্ট হলেন কোরবানি দিতে। তিনি পশু কোরবানি দিলেন। আবারো একই আদেশ। তিনি আবারো পশু কোরবানি দিলেন। এরপর আদেশ এলো সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। তিনি আল্লাহর আদেশ বুঝতে পেরে হজরত হাজেরা ও ইসমাইলকে স্বপ্নের কথা বললেন বললেন ইসমাইলই তো এখন আমার সবচেয়ে প্রিয়। তারা উভয়ে সানন্দে রাজি হলেন। শয়তান উভয়কে কুবুদ্ধি দিয়ে ব্যর্থ হলো। ইবরাহিম আ:-এর কাছেও সে হেরে গেল। নবী ইবরাহিম পুত্রকে মিনায় নিয়ে গেলেন। কোরবানির উদ্দেশ্যে পুত্রকে সেখানে কাত করে শোয়ালেন। তখন ওহি নাজিল হলো হে ইবরাহিম তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যি সত্যিই পালন করলে। এভাবে আমি নেককার বান্দাদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। (সূরা সাফফাত-১০৫) এই আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে সেখানে একটি স্বর্গীয় দুম্বা হাজির করা হলো। আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইবরাহিম আ: সেই দুম্বাটি কোরবানি দিলেন। এই পবিত্র তাকওয়ার স্মৃতিকে চির জাগরূক রাখার লক্ষ্যে নবম হিজরি সালে কোরবানির ওহি নাজিল হয়। এই একই সময়ে হজের নির্দেশও নাজিল হয়। -সংগৃহীত।
Previous
Next Post »