আবারো পেস আক্রমনই হাতিয়ার বাংলাদেশের ।

 এবার তাসকিনের এগিয়ে যাওয়ার পালা
কাঁধের চোটে দলের বাইরে আছেন মোস্তাফিজুর রহমান। দলের অন্যতম সেরা এই বোলারের অভাব অনুভব করলেও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা মনে করেন, সেরা পেস আক্রমণ নিয়েই বাংলাদেশ নামছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
ব্যাটিং অনুশীলন চলছিল। হঠাৎ​ মুষলধারে বৃষ্টিতে ছেদ পড়ে গেল তাতে। বৃষ্টি থেকে শরীর বাঁচাতে আশ্রয় নিতে হল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির নিচে। ছবিতে কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, ব্যাটিং পরামর্শক থিলান সামারাবীরার সঙ্গে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় দেখা যাচ্ছে তামিম ইকবাল, মোসাদ্দেক হোসেন, নাসির হোসেন ও তাইজুল ইসলামকে।  ছবি: শামসুল হক।
২০১৫ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে ছিলেন মাশরাফি, তাসকিন আহমেদ, রুবেল হোসেন। পরে আল আমিনের জায়গায় দলে ঢুকেছিলেন শফিউল ইসলাম। এই বোলিং আক্রমণ নিয়েই বাংলাদেশ পেয়েছিল সাফল্য। এবার আফগানিস্তান সিরিজেও একই আক্রমণ। আজ সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানালেন, বোলিং আক্রমণ নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা, ‘আমরা সর্বশেষ বিশ্বকাপ যখন খেলেছিলাম আমাদের এই আক্রমণই ছিল। সত্যি বলতে আমরা ফিজকে মিস করব। তবে আমরা যারা আছি তাদেরও প্রমাণ করার একটা সুযোগ থাকছে। যারা বাইরে ছিল এবার তারা নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছে। আর এখন ওয়ানডেতে আমাদের পেস বোলারদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আমি মনে করি আমাদের সেরা আক্রমণই আছে।’
ওয়ানডেতে দুই দলের সাক্ষাতে ১-১ সমতা থাকলেও এবার এগিয়ে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। ঐতিহ্য ও শক্তিমত্তায় এগিয়ে থাকলেও মাশরাফিকে ভাবাচ্ছে প্রায় এক বছর ওয়ানডে না খেলার বিষয়টি, ‘এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ। আমরা গত এক বছরে কোনো ওয়ানডে খেলেনি। এখন একটা সিরিজ খেলতে নামছি। তা ছাড়া আফগানিস্তানও এখন খুব ভালো করছে। সব দিক দিয়েই সিরিজটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যাদিকে, গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরাফাত সানির সঙ্গে বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হওয়ার পর ভীষণ যন্ত্রণাময় সময় কেটেছে তাসকিনের। ‘দিনটা যেমন-তেমন, রাতে ঘুম আসত না। ভীষণ টেনশন’—গত পাঁচটা মাস ছিল তাঁর এমনই উদ্বেগভরা। কখনো কখনো হতাশাও ঘিরে ধরেছে তাঁকে। তবে ভেঙে পড়েননি। পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চালিয়ে গেছেন একাগ্রে। স্থানীয় কোচ মাহবুবুল আলীর পরামর্শে নিজের ঘরে বসিয়েছেন ৬ ফুট আয়না, যেটির সামনে নিয়মিত অনুশীলন করেছেন।
বোলিং অ্যাকশন শুধরে আসার পর বেশির ভাগ বোলারকে প্রশ্নটা শুনতে হয়, আগের ধারটা থাকবে তো? তাসকিনকেও শুনতে হচ্ছে। তিনি অবশ্য আত্মবিশ্বাসী, ‘ধার কমে যাবে, এই কথায় আমি বিশ্বাসী নই। সবকিছু নিজের কাছে। আগের চেয়ে ভালো কিছু তো হতেও পারে।’
‘ভালো কিছু’র ইঙ্গিত মিলেছে গত কিছুদিনে তাঁর পারফরম্যান্সেই। নিজেকে শুদ্ধ করে তোলার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি খেলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। রাজ্যের চাপ সামলে ১৫ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে হয়েছেন পেসারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ভালো করেছেন বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ম্যাচেও।
গতিই তাসকিনের বোলিংয়ের মূল শক্তি। অ্যাকশন শুদ্ধ করার পর সেটি কমে যাবে না তো? তাসকিন অবশ্য আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়েছেন, তাঁর গতি আগের চেয়ে বেড়েছে! সাদা চোখে হয়তো এটা বোঝা কঠিন। তবে বোলিং অ্যাকশন ঠিক করতে গিয়ে তাঁর গতিতে যে পরিবর্তন আনা হয়নি, কোচ মাহবুবুল আলী আগেই জানিয়েছেন, ‘ওর গতিতে পরিবর্তন আনলে তাসকিন আর তাসকিন থাকবে না। আমরা সেটি মাথায় রেখেই কাজ করেছি।’
যন্ত্রণার প্রহর কাটিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু তাসকিনের। তিনি অনেকবারই বলেছেন, ‘এই বাধাটা আমাকে দুই ধাপ ওপরেও নিয়ে যেতে পারে।’ দুঃসময় পেরিয়ে এবার তাসকিনের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পালা।