শেষ ভাল যার , সব ভাল তার ।

জয়ের জন্য বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা ভালোই হয়েছিল আফগানদের। যদিও তাসকিনের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ শেহজাদের একটি সহজ ক্যাচ ছাড়েন ইমরুল কায়েস। আর পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে শাবির নুরির আরেকটি ক্যাচ মিস করেন রুবেল হোসেন।
ছবি-বিসিবি
প্রথম ৫ ওভার শেষে বিনা উইকেটে ২০ রান তোলে সফরকারীরা। এরপর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মোহাম্মদ শেহজাদ। তাসকিন-মাশরাফিদের ওপর চড়াও হন এই ব্যাটসম্যান। তবে খুব বেশি ক্ষতি হওয়ার আগেই শেহজাদকে ফেরান টাইগার দলপতি।

২১ বলে ৩১ রান করে শেহজাদ আউট হওয়ার ঠিক পরের ওভারেই আফগানদের আরেকটি ধাক্কা দেন সাকিব আল হাসান। শাবির নুরিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার।

এরপর উইকেটে এসে ইনিংস গড়ায় মনোযোগী হন আফগান ব্যাটসম্যানরা। রহমতউল্লাহ ও হাসমতউল্লাহ শাহিদির শতরানের জুটিতে ধীরে ধীরে আফগানরা এগুতে থাকে লক্ষ্যের পথে। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও সুযোগ বুঝে হাতখুলে মারতে শুরু করেন দুজনেই। রুবেলকে ছয় মেরে অর্ধশতকে পৌঁছান রহমত।
ছবি-বিসিবি
যখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা প্রায় জিতেই যাচ্ছে আফগানিস্তান; ঠিক সেই সময়ই রহমত শাহকে সাজঘরে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন সাকিব। সাকিবকে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে বলের লাইন মিস করেন রহমত। স্টাম্পস ভাঙতে বিন্দুমাত্র দেরি করেননি মুশফিকুর রহিম।

এই উইকেট নিয়ে টেস্ট ও টি২০ ক্রিকেটের পর ওয়ানডেতেও দেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি এখন সাকিব। ২০৭ উইকেট নিয়ে তার পরেই রয়েছেন আবদুর রাজ্জাক।

৭১ রানে বিদায় নেন রহমত। ৪৪তম ওভারে আরেক ব্যাটসম্যান ইহসানউল্লাহ শাহিদিকে ফিরিয়ে টাইগারদের জয়ের আশা আরও একটু বাড়িয়ে দেন তাইজুল। ফেরার আগে ১১০ বলে ৭২ রান করেন শাহিদি।

কিন্তু এর পরের ওভারেই ১১ রান দিয়ে বাংলাদেশের জয়টা কঠিন করে তোলেন রুবেল। উপায় না দেখে বল হাতে নেন মাশরাফি। নিজের শেষ ওভারে নজিবুল্লাহ জাদরানকে ফিরিয়ে ম্যাচে আবারও চাঞ্চল্য ফেরান ম্যাশ।

তবে পরের বলেই মাশরাফিকে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছয় মেরে নিজেদের সম্ভাবনাটা জিইয়ে রাখেন আফগান অধিনায়ক আজগর স্ট্যানিকজাই।

৪৮তম ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ নবীকে ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন তাসকিন। পরের বলেই আফগান দলপতিকে বিদায় করে টাইগারদের নিশ্চিত জয়ের পথে নিয়ে যান তাসকিন আহমেদই। এরপর ৪৯তম ওভারে আট রান দিলেও দুর্দান্ত বল করেন রুবেল হোসেন।

শেষ ওভারে অাফগানদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৩ রান। প্রথম বলে দুই রান দিলেও দ্বিতীয় বলে মীরওয়াইশ আশরাফকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তাসকিন। পরের চারটি বলে কেবল একটি রানই নিতে পেরেছে আফগানিস্তান।

টাইগার বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ একাই নে চারটি উইকেট। এছাড়া অধিনায়ক মাশরাফি ও সাকিব দুটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬৫ (তামিম ৮০, সৌম্য ০, ইমরুল ৩৭, মাহমুউল্লাহ ৬২, সাকিব ৪৮, মুশফিক ৬, সাব্বির ২, মাশরাফি ৪, তাইজুল ১১, তাসকিন ২, রুবেল ১*; দৌলত ৪/৭৩, নাভিন ১/৬২, নবি ২/৪০, আশরাফ ১/৫১, রশিদ ২/৩৭)

আফগানিস্তান: ৫০ ওভারে ২৫৮ (নুরি ৯, শাহজাদ ৩১, রহমত ৭১, হাশমতুল্লাহ ৭২, নবি ৩০, নাজিবুল্লাহ ৭, স্তানিকজাই ১০, রশিদ ৭, আশরাফ ৩, দৌলত ২, নাভিন ০*; মাশরাফি ২/৪২, তাসকিন ৪/৫৯, সাকিব ২/২৬, রুবেল ‌১/৬২, তাইজুল ১/৪৪, মাহমুদউল্লাহ ০/২২)

ফল: বাংলাদেশ ৭ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান

Previous Post
Next Post