মোবাইল অপারেটর কম্পানি গুলোর ই কমার্স ব্যাবসা বন্ধের দাবি বেসিসের ।

বর্তমানে বাংলাদেশে ই-কমার্সের বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৩৫০ কোটি টাকা। ই-কমার্স কোম্পানিসহ এই খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন ধরণের ৫ হাজার উদ্যোক্তা রয়েছে, যাদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতে ৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের খুচরা বাজারগুলোর ২ থেকে ৩ শতাংশ অনলাইনে আনা সম্ভব হলে অনলাইন বাজারের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

যেখানে অন্তত ১০ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
অথচ সম্ভাবনাময় এই খাতে ইতোমধ্যেই বড় বড় বিদেশি কোম্পানি বিশেষ করে টেলিকম অপারেটরদের সক্রিয় অংশগ্রহণ শুরু হয়েছে। তারা টেলিকম সেবাদানের অনুমোদন পেলেও এই খাতে ব্যবসা শুরু করছে, যা দেশের তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য হুমকিস্বরুপ। কারণ এসব কোম্পানির অত্যাধিক বিনিয়োগের ফলে বাজারে একটি অসম প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। তারা নিজেদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্ভাব্য ভোক্তাদের বিনামূল্যে সাইট ভিজিট করতে দিচ্ছে। এছাড়া লোভনীয় নানা অফারতো থাকছেই। তাদের কাছে দেশীয় কোম্পানিগুলোর টিকে থাকা দায় হবে। কারণ তারা এ ধরণের সেবা দিতে পারছে না।

বক্তারা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমনকি পার্শ্ববতী দেশ ভারতে এ ধরণের সুযোগ নেই। কোনো টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া, বিদেশি ই-কমার্স সাইটগুলো দেশীয় পণ্য বিক্রি করতে পারবে না এমন নানা উদাহরণ রয়েছে। যথাযথ গাইডলাইন না থাকায় টেলিকম অপারেটররা সরাসরি বিনিয়োগ করে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। দেশের উদ্যোক্তাদের রক্ষা করতে ও সম্ভাবনাময় খাতকে টিকিয়ে রাখতে যথাযথ আইন বা নীতিমালা করে টেলিকম কোম্পানিকে দেশের ই-কমার্স বাজারে প্রবেশে প্রতিহত করতে হবে। এছাড়া কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হলে দেশীয় কোম্পানির সঙ্গে অন্তত ৫০ শতাংশ শেয়ারে কাজ করতে পারবে।
গোলটেবিল বৈঠক থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দফতরগুলোতে বৈঠকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে খসড়া নীতিমালা প্রদান করা হবে বলেও বেসিস ও বেসিস ই-কমার্স অ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়।