অর্থসহ বুঝে কোরআন অধ্যয়ন করা কতটা জরুরী।

অর্থসহ বুঝে কোরআন অধ্যয়ন করা কতটা জরুরী:

সূরা আল বাকারা ৩৮ আয়াতে আল্লাহ
বলেন-
আমি হুকুম করলাম, তেমরা সবাই নীচে
নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট
আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌছে
তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত
অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয়
আসবে, না তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্ত্রস্ত
হবে।

দেখা যাচ্ছে আল্লাহ আদম [আ:] ও হাওয়া
[আ:] কে বেহেস্ত থেকে দুনিয়ায় পাঠাবার
সময়ই বলেছিলেন যে সেখানে (দুনিয়ায়)
কিভাবে চলবে সে আদেশ আমি পরবর্তীতে
সময়ে সময়ে পাঠাবো।
যারা মানবে তারা সফল, যারা মানবেনা
তারা ব্যর্থ।

তাহলে এবার আসুন আল্লাহর পাঠানো সেই
নির্দেশ যদি আমরা বুঝতেই না পারি তাহলে
মানা নামানার প্রশ্ন কিভাবে আসবে ?
একজন সাধারন ব্যক্তি ও স্বীকার করবে যে
মানতে হলে আগে পড়ে বুঝতে হবে।
একজন লোক কোরআন থেকে আরবিতে
পড়লেন - ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺮَﺑُﻮﺍْ ﺍﻟﺰِّﻧَﻰ ﺇِﻧَّﻪُ ﻛَﺎﻥَ ﻓَﺎﺣِﺸَﺔً ﻭَﺳَﺎﺀ
ﺳَﺒِﻴﻼً
লোকটি উপরোক্ত আয়াতটি আরবিতে পড়লেন
বটে কিন্তু কি পড়লেন কিছুই বুঝলেন না।
লোকটির অন্তর ঐ আয়াত টা পড়ার আগে
যেরকম ছিল তা পড়ার পরও সেরকমই থেকে
গেল।

আরবিতে কোরআন তেলাওয়াত করার কারনে
নিশ্চয় লোকটি অক্ষর প্রতি দশটি নেকী
পেয়েছেন। লোকটির সওয়াব বৃদ্ধি পেল বটে
কিন্তু আল্লাহপাক যে সেই আয়াতে মানুষকে
উদ্দেশ্য করে একটা কিছু বলেছেন, সেই
বলার মধ্যে মানবজাতির জন্য কল্যান নিহীত
ছিল। ঐ কল্যান থেকে লোকটি মাহরুম থেকে
গেলেন তা না বুঝার কারনে।

অন্যদিকে অপর ব্যক্তি যখন ঐ আয়াতের অর্থ
পড়ে জানল যে সেখানে আল্লাহ পাক
বলেছেন -
তোমরা ব্যাভিচারের কাছেও যেওনা,
কারন এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্টতম পথ।
এটা পড়ে বুঝার সাথে সাথে তার অন্তরাত্মা
কেপে উঠল। স্বয়ং আল্লাহ যেটা করতে
নিষেধ করেছেন সেটা বুঝতে পেরে সে
বারে বারে নিকৃষ্টতম কাজ থেকে আল্লাহর
কাছে পানাহ চাইতে লাগল। আর আল্লাহ তো
বান্দার ডাকে সাড়া দিবেনই।
তাহলে দেখেন যে কোরআনের অর্থ বুঝে
পড়েছে আর যে বুঝে পড়ে নাই উভয়েই
সমান নয়।