রাত দিন ও সময় সবই আল্লাহর নিয়ন্ত্রনে।

আবূ হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: মহান আল্লাহ্ বলেন,আদম সন্তান যুগ এবং সময়কে গালি দিয়ে আমাকে কষ্ট দেয়। সময় তো আমারই নিয়ন্ত্রণে। রাত-দিনের পরিবর্তন আমিই করে থাকি। (সহিহ মুসলিম, হাদীস নং- ৫৬৯৮)

আল্লাহ্ রাত দিনের পরিবর্তন করে থাকেন। আল্লাহ্ নিজ ইচ্ছায় সময়কে নিয়ন্ত্রণ করেন।
কিয়ামতের একটা নিদর্শন হল সময় দ্রুত পার হবে। দ্রুত পার হবে মানে সময়ের বরকত কমে যাবে যেমন ইমাম গাজ্জালী রহ উনার ৫৫বছর জীবনে যত বই লিখেছেন আজ ৬০ বছরেরও কেউ উনার সকল বই পড়ে শেষ করতে পারবে না।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত,আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,“সেই সময় পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হবে না,যতক্ষণ না সময় পরস্পর খুব কাছাকাছি হয়ে যাবে। সে সময় বছর মাসের,মাস সপ্তাহের,সপ্তাহ দিনের,দিন ঘণ্টার আর ঘণ্টা খেজুরের পাতা বা ডালের প্রজ্বলন সময়ের সমান হয়ে যাবে”। (ইবনে হিব্বান খণ্ড ৫,পৃষ্ঠা ২৫৬)

বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করলে দেখব কিভাবে সময় খুব দ্রুত পার হচ্ছে। আমাদের এখন প্রায় মনে হয় বা বলতে শুনি এই তো কয়েকদিন আগে বছর শুরু হল, এত দ্রুত মাস শেষ?, আজকে ১০ টা রোজা শেষ? আমরা দেখছি খুব দ্রুত সময় অতিবাহিত হচ্ছে। পূর্বেও এক দিনে ২৪ ঘন্টাই ছিল এখনো তাই তবে অবাক হয়ে যায় যখন দেখি কিভাবে আগে এই একই সময়ে যা হত এখন তা করা অসম্ভব। আগে কার যুগে সাহাবা রা ও তাবেঈনদের কিছু আমল শুনলে স্পস্ট হবে বিষয়টা-

➥ হযরত আলী বিন আবী তালিব রাঃ প্রতিদিন আট খতম কুরআন পড়তেন। [ইকামাতুল হুজ্জাহ লি আব্দুল হাই লৌক্ষ্ণভী-৬৪]

➥ মুহাম্মদ বিন সিরীন রহঃ থেকে বর্ণিত। উসমান রাঃ এর স্ত্রী বলেন,যখন লোকেরা হযরত উসমান রাঃ এর হত্যার জন্য ঘুরছিল। তখন তাকে হত্যা করুক বা ছেড়ে দিক,তিনি পুরো রাতই নামায পড়তেন,প্রতি রাকআতে এক খতম কুরআন পড়তেন। (হিলয়াতুল আওয়ালিয়া-১/৫৬]

➥ হযরত তামীম বিন আউস রাঃ প্রতি রাকআতে এক খতম কুরআন পড়তেন,কখনো কখনো এক আয়াত পড়তে পড়তেই রাত পাড় করে দিতেন। [ফাতহুল মুবীন বিশরহিল আরবাঈন লিইবনে হাজার আলমক্কী-১০৮]
➥ আমের বিন আব্দুল্লাহ রহঃ প্রতিদিন এক হাজার রাকাত নামায পড়তেন। [হিলয়াতুল আওলিয়া-২/৮৮]

বর্তমানের ১ দিনে ৮ খতম কুরআন পড়া অসম্ভব। এক পারা পড়তে ১০ মিনিট করে লাগলেও ৮ খতম দিতে ৪০ ঘন্টা প্রয়োজন। প্রত্যেক রাকাতে এক খতম কুরআন পড়লে দুই রাকাতের বেশি নামাজ বর্তমান সময়ে পড়া অসম্ভব। ২ রাকাত নামাজ পড়তে যদি ৫ মিনিট করেও ধরি তবুও ১ হাজার রাকাত নামাজ পড়তে একদিনে ৪১ ঘন্টার প্রয়োজন হবে ।

এটাই হল সময়ের বরকত যা আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে। তাই এখন বছর মাসের মত মাস সপ্তাহের মত, সপ্তাহ দিনের মত আর দিন ঘন্টার মত মনে হচ্ছে। দাজ্জালের সাথেও সময়ের সম্পর্ক আছে, তার প্রথম দিন আমাদের কাছে বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন মাসের সমান, তৃতীয় দিন হল সপ্তাহের সমান বাকি দিন গুলো আমাদের দিনের মত। এখানে দু-রকম সময়ের পরিবর্তন লক্ষ্যা করা যায়। প্রথমত হল মাত্রা (ডাইমেনসন), বিভিন্ন মাত্রায় আলাদা আলাদা সময় বিদ্যমান। তাই এক রাতেই (মিরাজে) হাজার হাজার বছরের দূরত্ব পার হওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, প্রথিবীর সৃষ্টি থেকে প্রতিশ্রুত সময় (কিয়ামত) পর্যন্ত সময়ের বরকত ও ব্যাপ্তি হ্রাস হচ্ছে।