ব্যবস্থা বনাম বাস্তবতা !


শিশুতোষ বুদ্ধিজীবি জাফর স্যারের কাঁধে হাত রেখে বলতে ইচ্ছে করে হয়ত অধিক চাপে আমাদের শিক্ষার্থীদের মগজে ভাজ পড়ে গেছে , বইয়ের ভারে মস্তক নুইয়ে গেছে , লৌহকঠিন প্রশ্নপত্রে মেধায় সাময়ীক মরচে পড়েছে । কিন্তু গোঁফ থাকিলেও বুদ্ধিজীবি হইতে না পারার তাগিদে এগুলান ভাবিতেও পারিলামনা ।
http://archive.prothom-alo.com/resize/maxDim/340x1000/img/uploads/media/2012/05/18/2012-05-18-08-46-05-4fb60c4d01d6f-ram-sing.jpg

গোফ থাকিলেই বুদ্ধিজিবি হওয়া যায়না । আবার কানে ধরিলেই শিক্ষকের আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে দেয়া যায়না । শুধু , ট্যাক্স বসিয়েই দেশের উন্নতি করা যায়না । আশ্চর্য জনক হইলেও সত্য এইসব বিষয়ে যাহাদের সৃজনশীল জ্ঞান থাকা দরকার তাহাদের নিতান্ত সাধারন জ্ঞানেরও ভিষন অভাব ।এইসব অব্যাস্থাপনা প্রতিরোধে বিরাট বিরাট বিশেষ বিশেষ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হলেও বাস্তবে তা রুপান্তরিত হয় মহা অব্যাবস্থাপনায় । 😎


সৃজনশীলতা মানে কি ? মানে আগে প্রশ্ন হইতো “ঝন্টুর চরিত্র বিশ্লেষন কর” । এখন হয়- “ মন্টুর মত দেখিতে কিন্তু মন্টু না- তোমার বইয়ে পঠিত এমন একজনের চরিত্র বিশ্লেষন কর ।“
আর সৃজনশীল মেধা কি ? উত্তর- ঝোপ বুঝে কোপ মারিতে পারা । সেটা কিরুপ ?
  1. ধরেন প্রশ্ন করা হলো “ফ্লোরিজেন মানে কি ?” ।


  • রনি লিখিল- ফ্লোরিজেন হইল উদ্ভিদের এমন এক ধরনের পুশ্চুলেটেড হরমোন যা ফুল ফোটাতে সাহায্য করে ।

  • মনি- ফ্লোরিজেন এক ধরনের পুশ্চুলেটেড হরমোন ।

  • জনি- ফ্লোরিজেন এক ধরনের উদ্ভিদ হরমোন ।

  • টনি- ফ্লোরিজেন এক ধরনের হরমোন ।

আপনি যত নাম্বারই পকেটে মজুদ রাখার অভিপ্রায় নিয়া খাতা কাটিতে যাননা কেন এই চারিজনকেই আপনি ন্যুনতম অথবা সর্বোচ্চ পুর্নমান ‘১’ করিয়া দিতে বাধ্য ।নাম্বার বিবেচনায় রনি-মনি-জনি-টনি একই মেসে থাকিলেও মেধার মানে কিন্তু সাত তলা আর গাছ তলা টাইপ । তাহলে বুঝা গেলো সৃজনশীলে নাম্বার ও মেধা পরস্পরের বীপ্রতীপ কোণ !
এখন , আপনাকে যদি বলা হয় এই চারজনের মধ্যে কে বেশি মুনাফাখোর পরিক্ষার্থী ? উত্তর অবশ্যই টনি । যদি আমাদের সময়ও সৃজনশীল ব্যাবস্থা থাকিত তবে নিঃসন্দেহে আমিও অধিক মুনাফাই প্রত্যাশা করিতাম !

আমাদের সময় যেমন ধমনী-শিরার পার্থক্য আসতো ৫ নাম্বারের জন্য । এখন আসে ২ নাম্বারের ‘খ’ তে । আমরা লিখিতাম/শিখিতাম ৮-১০টি । আর এখন ? নাম্বার বিবেচনায় ৫টি লিখাইতো মহানুভবতা !
তাহলে এই অধিক মুনাফাখোর হবার তাগিদ থাকাটায় দায় কার ? শিক্ষার্থীর নাকি ব্যাবস্থার ? আপনি যখন নাম্বার বন্টনে কৃপণতা করিবেন তখন মেধা বন্টনেও শিক্ষার্থীরা কৃপণ হইতে চাইবে- এটাইতো স্বাভাবিক ।

এই যে এখন আমাদের শব্দভুক টাকসমগ্র মন্ত্রিসাব আরো সৃজনশীল প্রশ্নের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন তাতে কি হইবে ? সময় স্বল্পতায় ও নাম্বার বিবেচনায় কোনো উত্তর পুর্নাংগ রুপে লিখিতে চাইবার ইচ্ছা থাকিলেও কম বিনিয়োগে অধিক ফলনের আশায় শিক্ষার্থীরা আরো সৃজনশীল মুনাফাখোর হইবে বা হইতে চাইবে-এটাই অনুমিত ! ভাগ্যিস কপালটা চ্যাপ্টা হইলেও ফাটা না । নইলে আবুল মাল সাব শিক্ষামন্ত্রি হইলে এই মুনাফাতেও ট্যাক্স বসায়া দিতেন !

টীকাঃ সেদিন রক্ত নিয়ে পড়াচ্ছিলাম । শুরু করবার আগে জিগাইলাম- রক্ত কি ? একজন বলিল- রক্ত পরীমনি অভিনীত সিনেমার নাম । হাসির ছলে বলা হলেও নাম্বার কিন্তু পুরো ৫ই জানুয়ারির ইলেকশন ।

Previous Post
Next Post