পর্দা ও নগ্নতা । একটি সেলুকাস ।

প্রথম ছবির মানুষটাকে সবাই চিনেন। উনার নাম মাদার তেরেসা।পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষের সেবায় যে গুটিকয়েক ব্যক্তি নিজেকে সপেঁ গেছেন, ইনি তাদের অন্যতম।উনাকে এই ছবিতে যে পোশাকে দেখছেন, সারাজীবন উনি এরকম পোশাকই পরিধান করেছেন। লম্বা হাতাওয়ালা ব্লাউজ, মোটা শাড়ি, শাড়ির ঘোমটা অনেকটাই মুখের সামনে টানা থাকতো। শাড়ির উপরে থাকতো আরেকটি মোটা থান।
 
ট্যাগঃ হায় সেলুকাস,সত্য সেলুকাস,সত্যিই সেলুকাস,অবাক সেলুকাস্‌ , ব্লাউজের ডিজাইন,ব্লাউজ কাটিং
ব্লাউজ,ব্লাউজ খুলে,শাড়ি আর ব্লাউজ,শাড়ির উপর ব্লাউজ,শাড়ির ওপর ব্লাউজ,বগল কাটা ব্লাউজ,টাইট ব্লাউজ


http://www.reckontalk.com/wp-content/uploads/2015/09/654x374xMother-Teresa-Quotes-6.jpg.pagespeed.ic.kUloi9l0ZZ.jpg

যাহোক, আমার যেসব সেক্যুলার নাস্তিক বন্ধুরা মুসলিম মহিলাদের 'হিজাব' নিয়ে আপত্তি জানায়, 'হিজাব' কে আরবের কালচার বলে চালিয়ে দিতে ব্যতিব্যস্ত থাকে, আমি তাদের কাউকেই কোনদিন মাদার তেরেসার এই পোশাক নিয়ে উচ্চবাক্য করতে দেখিনি।

একজনকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'আচ্ছা, মাদার তেরেসাও কি আরবের কালচার অনুসারে এরকম পোশাক পরতেন?'
সে বললো, 'না না। তা হবে কেনো?'
- 'নাহ, উনি খোলামেলা পোশাক না পরে এরকম ঢেকেঢুকে পোশাক পরেছেন তো, তাই বললাম।'
সে রাগ রাগ ভাব নিয়ে বললো, 'ওই মিয়া, উনি কি পরবে না পরবে সেটা উনার পছন্দ। আপনি উনার পোশাক নিয়ে মাথা ঘামানোর কে?'

- 'আমি আসলে মাথা ঘামাচ্ছি না। শুধু জানতে চাচ্ছি, মাদার তেরেসা যদি উনার পছন্দনুসারে এই ধরনের পোশাক পরিধান করতে পারেন, এবং তাতে যদি আপনার কোন আপত্তি না থাকে, তাহলে মুসলিম মহিলাদের 'হিজাব' নিয়ে কেনো আপনার এতো আপত্তি?
'উনি বললেন, 'বললেই হলো? আপনাদের ধর্ম হিজাবটা মেয়েদের উপরেচাপিয়ে দেয়। তারা এটা পরতে বাধ্য হয়। তাদের চাপ প্রয়োগ করা হয় ছোটবেলা থেকে।





http://popular24news.com/wp-content/uploads/2013/11/image_235_31862.jpg
 'আমি বললাম, 'এমন একটি প্রমান কি আপনার কাছে আছে যে, একজন মহিলা হিজাব পরে আপনার কাছে এসেছেন এবং অভিযোগ করে বলেছেনউনি হিজাবে ডিসকমফোর্ট ফিল করছেন?'


- 'তা অবশ্য নেই।'- 'তাহলে কি করে বুঝলেন যে তাদের উপর হিজাব চাপিয়ে দেওয়া হয়?'- 'যেহেতু কোরানে আছে তাই তারা তা মানতে বাধ্য। এটা কি চাপিয়ে দেওয়া নয়?'

- 'দেখুন ভাই, কোরান একটা ম্যানুয়াল মাত্র। সেখানে কিছু নির্দেশনা দিয়ে দেওয়া আছে। এখন এসব আপনি মানবেন কি মানবেননা তা আপনার ব্যাপার। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন কি আপনাকে ঔষুধ খেতে জোর করে? বলপ্রয়োগ করে? করেনা। প্রেসক্রিপশন কেবল কিছু ঔষুধ সাজেষ্ট করে। এখন আপনি প্রেসক্রিপশনটা পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান করবেন নাকি প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষুধ গিলবেন তা আপনার ব্যাপার।

গতকাল আরেকজন সেক্যুলার নাস্তিকের সাথে আলাপ হলো।তাকে আমি সোজা প্রশ্ন করলাম। বললাম, 'আপনার মতে হিজাবে অসুবিধা কি? আপনি কেনো এটার বিরোধিতা করেন?
-সে বললো, 'এপ্রিল মাসের গরমের ব্যাপারে তো জানেন নিশ্চই? কাঠফাটা রোদে মহিলারা মোটা মোটা কাপড় গায়ে জড়িয়ে রাখছে, ব্যাপারটা কেমন না? তাদের কি পরিমাণ কষ্ট হয় ভাবুন একবার।ধর্ম এটা জোর করে তাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। পৃথিবীর তাবৎ চাপিয়ে দেওয়া আইনের বিরুদ্ধ্যেই আমি কথা বলবো।

https://s-media-cache-ak0.pinimg.com/originals/42/05/db/4205db22a542f98547f5c1da008cb80b.jpg

ট্যাগঃ নেটের ব্লাউজ,বিকিনি ব্লাউজ,ব্যাকলেস ব্লাউজ,বাহারি ব্লাউজ,মেয়েদের ব্লাউজ,স্লীভলেস ব্লাউজ,হাতাকাটা ব্লাউজ , হিজাব বাধারহিজাব ফ্যাশন,হিজাব পরা মেয়েদের ছবি,হিজাব ও পর্দা,হিজাব ও ইসলাম,পর্দা ও হিজাব,হিজাব এর গুরুত্ব,হিজাব গার্ল,হিজাব নিষিদ্ধ,নারীর হিজাব,হিজাব সম্পর্কে হাদিস,হট হিজাব

আমি বললাম, 'ও। আচ্ছা, আপনি নিশ্চই সেনাবাহিনীর পোশাক দেখেছেন? মোটা কাপড় গায়ে। লম্বা হাতাওয়ালা শার্ট। মাথায় বিরাট ভারি ক্যাপ। পায়ের জুতোগুলো প্রায় হাঁটু পর্যন্ত মোড়ানো।

- 'হ্যাঁ।'- 'তারা তো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করে। আফ্রিকায়। আফ্রিকার উত্তপ্ত মরুভূমিতে হোক বা অঘোর জঙ্গলে হোক, তাদের একইরকম পোশাক পরেই কাজ করতে হয়।
আচ্ছা, তাদের বুঝি এপ্রিল মাসে গরম লাগে না? ঘাম বের হয়না শরীরে? কষ্ট হয়না?
যদি হয়, তাহলে কি তারা এই পোশাক খুলে নর্মাল পোশাক পরতে পারে? নর্মাল শার্ট-প্যান্ট পরে কাজ করতে পারে?'- 'না, পারেনা।'- 'কেনো পারেনা?'- 'কারন এটা তাদের ড্রেস-কোড। তাদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু 'রুলস এন্ড রেগুলেশন্স' আছে।তারা এগুলোর বাইরে যেতে পারে না। তারা এগুলো মানতে বাধ্য।'

- 'ঠিক একইভাবে ধর্মেরও একটা নির্দিষ্ট 'রুলস এন্ড রেগুলেশন্স' আছে। এখানেও একটা নির্দিষ্ট 'ড্রেস-কোড' আছে। এখন কেউ যদি সেই রুলস মেনে চলে বা চলতে চায়, তাতে আপনার কিসের আপত্তি?'উনি আমাকে কোন জবাব দেন নি। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম উনি সেনাবাহিনীর এই ধরনের পোশাক বা ড্রেস কোডের বিরোধিতা করেনকিনা বা করেছেন কিনা?'অনেক ভেবে বললেন, উনি নাকি সেনাবাহিনীর এই পোশাকের বিরোধিতাও করে থাকেন আমি প্রমাণ চাইলাম।

ভদ্রলোক দেখাতে পারেন নি মোদ্দাকথা । মাদার তেরেসা যদি ঢেকেঢুকে,ঘোমটা টেনে, লম্বা হাতা ব্লাউজ পরে, মোটা শাড়ি,গাউন করে তাতেও উনাদের কোন আপত্তি নেই। এপ্রিল মাসের প্রখর গরমে সেনাবাহিনীর সৈনিকগণ হাঁটু অবধি জুতো, হাতে মোটা মোজা, গায়ে মোটা কাপড়ের ড্রেস, মাথায় ক্যাপলাগিয়ে আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে দৌঁড়ালেও তাদের জন্য আমাদের সেক্যুলার মহাশয়দের মায়া হয়না।
 http://paimages.prothom-alo.com/contents/cache/images/300x0x1/uploads/media/2013/11/12/5281245b1ebc1-Untitled-13.gif
তারা সেনাবাহিনীর এই পোশাক,এই ড্রেস কোড বাতিল করে পাতলা, ঢিলেঢালা পোশাকের জন্য আন্দোলন করেনা।উনাদের যতো মায়া, যতো আন্দোলন খালি মুসলিম মহিলারা ঢেকেঢুকে কাপড় পরলে, হিজাব করলে। সেলুকাস!! সত্যি সেলুকাস ।

আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আমরা বেশ কিছুদিন আগে নেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও শেয়ার করলাম । এতে করে আপনারা উপরের ছবিগুলো এবং ইসলামিক ড্রেস কোডের মর্যাদা সম্মন্ধে পুর্ন ধারনা পাবেন ।


ভিডিও টি ডাউনলোড করুন এখানে । 

 লেখাটিঃ আরিফ আজাদ এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগ্রহীত ।
Previous
Next Post »