হজ্জ বন্ধ হবে খুব শীঘ্রই।

খুব শীঘ্রই হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে।
প্রশ্নঃ- হাদীসে বলা হইয়াছে কেয়ামতেরপূর্বে হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে । আপনি কিবিষয়টি একটু ব্যাখ্যা করিয়া বলিবেন ?

উত্তরঃ- আপনি কি আমাকে এক ঘণ্টা সময়দিতে পারিবেন ?
ইয়াজুজ এবং মাজুজইংরেজিতে যাদেরকে বলা হয় গগ এবংম্যাগগ । এদের সম্পর্কে মুসলিম শরীফেরএকটি হাদীসে বর্ণনা করা হয়েছে, যা কিনাহাদীসে কুদসী । যাহার অর্থ হইল হাদীসেরভাষ্যটি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার । আল্লাহইয়াজুজ-মাজুজ সম্পর্কে বলেন, আমি এমনকিছু বান্দাকে সৃষ্টিকে করিয়াছি, তাহারাএমন শক্তিশালী যে আমি ছাড়া অন্য কেউতাহাদেরকে কেহ ধ্বংস করিতে পারিবে না। এই অদ্ভূত রকমের আক্ষরিক অর্থেঅপরাজেয় মহাশক্তিশালী প্রাণীরা কিন্তুঅন্য কোন বিচিত্র জীব নয়, বরং তাহারামানুষ ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলিয়াছেন,তাহারা মানবজাতির অন্তর্ভূক্ত , আদমেরসন্তান । কিন্তু পবিত্র কোরআন বলিতেছেযে, তাহারা তাহাদের শক্তিকে ব্যবহারকরিবে জুলুম অত্যাচারের কাজে । যেখানেজুলকারনাইন তাঁহার শক্তিকে ব্যবহারকরিতেন জালেম অত্যাচারীদের শায়েস্তাকরার কাজে । ইয়াজুজ-মাজুজ ফাসাদ সৃষ্টিকরে । ফাসাদ অর্থ হইল দূষিত করা, বিকৃতকরা এবং ধ্বংস করা । পবিত্র কোরআনআমাদেরকে বলে বিভিন্ন ধরনের ফাসাদেরকথা । উদাহরণস্বরূপ আমরা বলিতে পারিকৃষিকাজের কথা, খাবার-দাবার ।

জেনেটিক্যালি মোডিফাইড ফুড আমাদেরকেপুষ্টি দিতে পারে কিন্তু তাহা কখনও ঔষধহিসাবে ব্যবহৃত হইতে পারে না । কারণখাদ্যের ভেতরে আল্লাহ যেই জেনেটিককম্পোজিশান দিয়াছেন তাহাকে পরিবর্তনকরিয়া দেওয়া হইয়াছে । কাজেই আমাদেরইমিউন সিষ্টেম (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা)কোথায় পাইবে তাহার খাদ্য-পুষ্টি । সুতরাংআমাদের ইমিউন সিষ্টেমের খাদ্য-পুষ্টিরজন্য আমাদেরকে ফার্মেসীতে দৌড়াতেহইবে যেখানে আল্লাহ সেগুলো খাবারেরভিতরেই দিয়া রাখিয়াছিলেন । খাবারেরউপর এই অবৈধ হস্তক্ষেপের ফলে সেগুলোএখন আর ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা সম্ভবহইবে না । ইহাই একটি ফাসাদ । কাজেইআমরা যখন সুপারমার্কেট ফুড খাই, আমিগ্রামের খাবারের কথা বলছি না, তাহারফলস্রুতিতে আমাদের ইমিউন সিষ্টেম দিনদিনই দুর্বল হইয়া পড়িতেছে ।

সুতরাংডাক্তাররা আমাদেরকে যে-সবএন্টিবায়োটিক দিতেছে, সেগুলির শক্তিক্রমেই বৃদ্ধি করিতে হইতেছে । কমপাওয়ারের এন্টিবায়োটিকে এখন আর রোগনিরাময় হইতেছে না । কাজেই খাদ্যের এইবিকৃতি এবং ধ্বংস সাধন ইয়াজুজ-মাজুজেরঅপকর্ম । যে-সব লোকের সাথেজুলকারনাইনের সাক্ষাত হইয়াছিল, তাহারাজুলকারনাইনের নিকট ইয়াজুজ-মাজুজেরজুলুম-অত্যাচারের ব্যাপারে অভিযোগকরিয়াছিল এবং তাহাদেরকে রক্ষার জন্যএকটি দেয়াল নির্মাণের আবেদন করিয়াছিল। জুলকারনাইন লোহার ইট দিয়ে একটি উচুঁদেওয়াল তৈরী করিয়াছিলেন এবং তাহারউপর গলিত তামা ঢালিয়া দিয়াছিলেন ।আমরা সঠিকভাবে জানি ইয়াজুজ-মাজুজেরদেওয়াল কখন এবং কোথায় নির্মাণ করাহইয়াছিল, সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান ।ইয়াজুজ-মাজুজের ওপর লিখিত আমার বইয়েএই ব্যাপারে বিস্তারিত বিশ্লেষণ দেওয়াআছে । সুতরাং ইয়াজুজ-মাজুজ বসবাস করিতসেই দেয়ালের পেছনে ।

আমরা ইহাও জানিদেয়ালটি কখন ভাঙ্গিয়া ফেলা হইয়াছিল,আমি হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়াছি, “আজকেইয়াজুজ-মাজুজের দেওয়ালে একটি ছিদ্রহইয়াছে”। সুতরাং যখন ইয়াজুজ-মাজুজকেমুক্তি দেওয়া হইবে, মানবজাতি দেখিতেপাইবে একটি অপরাজেয় শক্তি পৃথিবীকেনিয়ন্ত্রণ করিতেছে, সেই শক্তি হইবে একটিঅপশক্তি, শয়তানী শক্তি । আপনি যখন সুরাআম্বিয়া পাঠ করিবেন, তাহাতে আমরাদ্বিতীয়বার ইয়াজুজ-মাজুজের বর্ণনা পাই ।এই ছুরাতে আল্লাহ তায়ালা একটি শহরেরকথা বলিয়াছেন যাহাকে তিনি ধ্বংসকরিয়াছেন এবং শহরের অধিবাসীদেরকেতিনি বহিষ্কার করিয়াছেন এবং সেখানেতাহাদের পুণরায় ফিরিয়া আসিবার ক্ষেত্রেনিষেধাজ্ঞা জারি করিয়াছেন । এই শহরেতাহারা পর্যটক হিসাবে আসিতে পারিবেকিন্তু কখনও নিজেদের আবাসভূমির দাবীনিয়া আসিতে পারিবে নাঃ-
যতক্ষণ নাদুইটি ঘটনা ঘটে
(১) ইয়াজুজ-মাজুজকেছাড়িয়া দেওয়া হয় এবং
(২) ইয়াজুজ-মাজুজপৃথিবীর চারদিকে ছড়াইয়া পড়ে, তারপরতাহারা পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ নিয়া নেয়,ইয়াজুজ-মাজুজের বিশ্ব ব্যবস্থা চালু হয় ।
সেই সময়ে সেই শহরের অধিবাসীরা পুণরায়ফিরিয়া আসিবে, সেই শহরের প্রতিতাহাদের পূর্বপুরুষের আবাসভূমির দাবী নিয়া।

সেটি কোন শহর ?
আমার উত্তর হইলজেরুজালেম । আমার উত্তরের পক্ষে আমিযে-সব যুক্তি দেখিয়েছি সেগুলো দেখতেপাবেন পবিত্র কোরআনে জেরুজালেম নামকআমার বইটিতে । কাজেই যখন দেখিবেন যে,ইহুদীরা পবিত্রভূমি জেরুজালেমে ফিরিয়াআসিয়াছে তাহাদের আবাসভূমির দাবীনিয়া, মনে করিবেন ইয়াজুজ-মাজুজইতাহাদেরকে এখানে ফিরাইয়া নিয়াআসিয়াছে । সবশেষে আমি আরেকটিহাদীসের উল্লেখ করতে চাই । হাদীসটিবোখারী শরীফে আছে । “ইয়াজুজ-মাজুজেরমুক্তির পরেও মানুষ আল্লাহর ঘরে (অর্থাৎকাবা শরীফে) হজ্জ এবং ওমরাহ পালনকরিতে থাকিবে”। তারপর হাদীসে আরও বলাহইয়াছে, “কেয়ামত অনুষ্টিত হইবে না যেপর্যন্ত না হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে অর্থাৎপরিত্যক্ত হইবে” ।

ইসরাঈল যদি ইরানেহামলা করে তবে হজ্জের বিদায় ঘন্টাবাজিয়া যাইবে । ইজরাইল যখন ইরানেআক্রমণ করিবে তখন হজ্জ বন্ধ হইয়া যাইবে ।হজ্জ বন্ধ হইয়া যাওয়ার পরেও আপনিকিভাবে দাবী করিবেন যে ইয়াজুজ-মাজুজমুক্তি পায় নাই ? লম্বা উত্তরের জন্য দুঃখিত। আর কাহারো কোন প্রশ্ন আছে ?

মূল - মাওলানা ইমরান নজর হোসেন
অনুবাদ – বশীর মাহমুদ ইলিয়াস

Pilgrimage will stop লেকচারের অনুবাদ


Previous Post
Next Post