আপনি কি মুরাদ টাকলা গেবনের ভ্যাজাইনার পাছায় হাউয়া খান?

ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লিখতে গিয়ে একেকজন কী কী কাণ্ডকারখানা করে থাকেন, তা নিশ্চয়ই সবার জানা। মুরোদ থাকলে-কে মুরাদ টাকলা, জীবনকে গেবন, ভাগিনা-কে ভ্যাজাইনা, হাওয়া-কে হাউয়া, পাশে-কে পাছায় লেখা এই বাংরেজ চিজদের নৈমিত্তিক অভ্যেস।

কত পুরুষ যে ছবির ক্যাপশনে 'মি অ্যান্ড মাই কিউট ভাগিনা' লিখতে গিয়ে 'মি অ্যান্ড মাই কিউট ভ্যাজাইনা' লিখেছেন এই ফেসবুকে, এর ইয়ত্তা নেই। আবার 'বারান্দায় হাওয়া খাচ্ছি' ক্যাপশনকে 'বারান্দায় হাউয়া খাচ্ছি' লেখা লোকও নেহায়েত কম দেখিনি। এমন লোমহর্ষক ভাষাবিপর্যয় ঘটানো কেবল বাংরেজদের পক্ষেই সম্ভব, কেবল বাংরেজদের পক্ষেই সম্ভব বারান্দায় হাউয়া খাওয়া, কেবল বাংরেজ পুরুষদের পক্ষেই সম্ভব কিউট ভ্যাজাইনার মালিক হওয়া!

জীবন শব্দটিকে বাংরেজিতে লিখতে গিয়ে এই স্বল্পশিক্ষিত সম্প্রদায়টি লিখে ফেলে গেবন, আজাদকে আগাদ, হাজেরাকে হাগেরা। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটদলের সদস্য ফারজানা তার নামকে ইংরেজিতে ফারগানা বানিয়ে বসে আছেন। ফ্রেন্ডসকে ফ্রান্স, ওকে-কে অকা, ভুলকে বুল, সুন্দরীকে সুন্দ্রী বানিয়ে ফেলাও তাদের জন্য ডালভাত।

মন চায়-কে মুঞ্চায়, হবে-কে হপে, হারামিকে হ্রামি, ভাইকে ভাউ বানানোও নেহায়েত নির্বুদ্ধিতার ও ছিঁচকে ছাগলামোর পরিচায়ক।এই সম্প্রদায়টিকে এদের ভাষায়ই বিদ্রূপ করেন এদের চেয়ে একধাপ বেশি শিক্ষিতরা এবং এই বিদ্রূপকারীরা নিজেদের লিখিত কথোপকথনে কিংবা ফেসবুক পোস্টে বছরের পর বছর ধরে জীবনকে গেবন, ফ্রেন্ডসকে ফ্রান্স, ওকে-কে অকা লিখে আসছেন। মানুষ অভ্যাসের দাস বলে কথিত আছে এবং চোখের সামনে প্রতিনিয়ত এই কথিত শব্দগুলো দেখতে-দেখতে মূল শব্দগুলো ক্রমশ ভুলেই যাচ্ছি।

মনে হয় অভিধানে জীবন বলে কোনো শব্দই নেই, শব্দটা আসলে গেবনই! এমনও ঘটেছে— মনে-মনে 'এ জীবনে যারে চেয়েছি' গাইতে গিয়ে গেয়ে ফেলেছি 'এ গেবনে যারে চেয়েছি'কিংবা কোনো গুরুজনের কথার জবাবে 'ওকে, ভাই' না বলে 'অকা, ভাই' বলে ফেলেছি!যেকোনো বিদ্রূপেরই একটা শেষ থাকা দরকার। নইলে বিদ্রূপের বিষয়বস্তু নিজেকেই অক্টোপাসের মতো এমনভাবে জেঁকে ধরে যে, ঐ বিষয়বস্তু নিজেকে গিয়ে খেয়ে ফেলে।

অতিভোজনে অমৃত বিস্বাদ লাগে, অতি কচলানোয় গাছের শ্রেষ্ঠ লেবুটিও একপর্যায়ে তেতো হয়, গেবন-অকা-ফ্রান্স-সুন্দ্রীও এখন পচতে-পচতে ডাস্টবিনের পুরোনো আবর্জনার চেয়ে বেশি পচে গেছে। এই শব্দগুলোর ব্যবহার এখন কেবল দুর্গন্ধই ছড়ায়। এই শব্দগুলো ব্যবহার করে এখনও কেউ 'মজা নিতে' চাইলে নাকে রুমাল চেপে তার পোস্ট থেকে ভেগে আসতে হয় এবং তার রসজ্ঞান নিয়ে প্রশ্নের উদ্রেক ঘটে। সর্বোপরি কথা একটাই— থামলে ভালো লাগে।

#লেখাঃ- আক্তারুজ্জামান আজাদ ( সাহিত্যিক) এর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে। (নিচে ছবি দ্রষ্টব্য)

লিখে পাঠান আমাদের ফেসবুক পেজ এ
আপনার লেখা ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হবে।


Previous Post
Next Post