বসন্ত ও ভালবাসার চুলকানি।

আমারো বসন্ত আছে। আছে ভালোবাসার চুলকানি।

টাইটেল দেখিয়া বিশ্মিত হইবেন না। কথায় আছে চেতনা ও চেতনা দন্ড সর্বাপেক্ষা অচেতন রাখা বান্দার সুন্দর মানবিক গুনাবলির পরিস্ফুটন।
কিন্তু আমি পারিনি আমার সেই পরিস্ফুটন ঘটাতে। কেন?
তখন আমি ৫ বছরের ফুটফুটে নাবালক। একটি কুলখানির দাওয়াতে আমার পরিবারের সাথে যাই। তখন সেই বাড়িতেই পরিচয় হয় আমার প্রথম প্রেমিকার সাথে।
তখন বর্ষা মৌসুম থাকায় চারিদিকে বাঁকা জল খেলা করিতেছিল।

আমরা যাচ্ছিলাম নৌকায় করে। কিন্তু নৌকা থেকে নামার সময় পা পিছলে আমি পড়িয়া যাই। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার নাবালিকা প্রেমিকাও পানিতে পড়িয়া যায়। শুনেছি প্রেমে পড়িলে মানুষ হাবুডুবু খায় কিন্তু আমি প্রেমে না পড়িতেই হাবুডুবু খাইয়াছি। শেষে মেয়ের বাবা আসিয়া আমাদের তুলিলেন। আমরা যেই বাড়িতে যাচ্ছিলাম সেটা ছিল ওরই মামার বাড়ি।
আমাদের দুজন কে নিয়েই সেখানে গোসল করানো হইলো।
সে তার মামার বাড়িতে কিছুদিন থাকবে তাই তার ব্যাগে কিছু বাড়তি জামাকাপড় ছিল। সেখান থেকে আমাকে একটা টি-শার্ট ও প্যান্ট পরিয়ে দেয়া হল। বলে রাখা ভাল ওর বাবা ছিল আমার বাবার বন্ধু।

তো আমি এভাবেই বাসায় এসে পৌছালাম। পরে আব্বু ওর প্যান্ট ওর বাড়িতে পৌছে দিলেও কোনো এক কারনে তার টি শার্ট আমাদের বাসায় থাকিয়া যায়।
আমি আজও তার সেই টি শার্ট সযত্নে রাখিয়াছি। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, আমি যখন ক্লাস এইটে তখন তার বিয়ে হয়ে যায়।
আমি খুব করে তাকে চেয়েছিলাম তা হয়তো নয় তবে আমার তাকে দেখলে ভাল লাগতো।
আজ তার আরো একটা বোন হয়েছে! তার বাবা #৫৫ বছর বয়সে আবার বাবা হইয়াছেন।

সবাই বলাবলি করছে বাচ্চা নাকি দেখতে ঠিক তার বড় বোন (ও)র মত হয়েছে।
এরচাইতে আনন্দের সংবাদ আমাদের জীবনে আর কিইবা হইতে পারে।

আমার কি এখন ভুমিষ্ঠ বালিকার জন্য অপেক্ষা করা সমীচীন হইবে ?
এত বড় বিশ্বাসঘাতক আমি নই।

আমাদের ফেসবুক পেজে লেখাটি পাঠিয়েছেন ( শারিয়ার খান)।

Previous
Next Post »