শুভ জন্মদিন স্টিভ জবস।

আজ যদি স্টিভ জবস বেঁচে থাকতেন তবে ৬২তম জন্মদিন পালন করতেন। তবে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে এমন কিছু চমৎকার ছাপ রেখে গেছেন, যা আজও প্রযুক্তিবিশ্ব শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। যদি তিনি থাকতেন তবে হয়তো পৃথিবী পেত আরও সব চমকপ্রদ গ্যাজেট।

১৯৫৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে জন্ম স্টিভ জবসের। অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ছিলেন তিনি, মারা যান ২০১১ সালের ৫ অক্টোবর।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের চোখে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন স্টিভ জবস এই বিশ্বকে তাঁর জাদুর ছোঁয়ায় বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর হাত ধরেই এসেছিল স্মার্টফোনের বিস্ময় ‘আইফোন’।
বিশ্বকে বদলে দেওয়া স্টিভ জবসের কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন:
অ্যাপলকে বিশ্বসেরা করতে চেয়েছিলেন
একটি গ্যারেজে যাত্রা শুরু হয়েছিল অ্যাপলের। স্টিভ জবস চেয়েছিলেন সে সময়ের বিশ্বের প্রধান কম্পিউটার নির্মাতা আইবিএমের সঙ্গে টক্কর দিতে। এখন আইবিএম শুধু সফটওয়্যার ও সার্ভিস কোম্পানি আর অ্যাপল একাধারে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্টিভ জবসের অধীনে একাধারে দুটি ব্যবসা করতে পেরেছে অ্যাপল। বর্তমানে বাজার মূলধনের হিসেবে অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি অ্যাপল।

আধুনিক ইন্টারনেট গড়তে রেখেছেন অবদান
করপোরেট সংস্কৃতির বলি হওয়াতে স্টিভ জবসকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত অ্যাপল কোম্পানি থেকে বের হয়ে যেতে হয়েছিল। তবে দমে যাননি তিনি। অ্যাপল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন নেক্সট। ১৯৮৮ সালে আধুনিক প্রযুক্তির ওয়ার্কস্টেশন কম্পিউটার তৈরি করেন তিনি। তাঁর ওই কম্পিউটার ব্যবহার করে ওয়েব উদ্ভাবক টিম বার্নার্স-লি ও রবার্ট ক্যাডিলাক সার্নে বসে বিশ্বের প্রথম ওয়েব সার্ভার সার্ন এইচটিটিপিডি ও প্রথম ওয়েব ব্রাউজার ওয়ার্ল্ডওয়াইডওয়েব তৈরি করেন। স্টিভের নেক্সট কম্পিউটার সিস্টেম সার্নের কাছে গবেষণার জন্য ৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিলেন স্টিভ। ওই কম্পিউটার না পেলে আধুনিক ওয়েব হয়তো আরও দেরিতে আসত।
সংগীতজগতকে রক্ষা করেছিলেন
স্টিভ জবসের রূপকথার শুরু মূলত সংগীতজগতকে রক্ষার জন্য তাঁর আইপড তৈরির মধ্য দিয়ে। ইন্টারনেটকে যখন বিনোদন ও সংগীতজগতের জন্য বাধা মনে করা হচ্ছিল, তখন অনলাইন মিউজিক সুবিধা যুক্ত করে একাই এ শিল্পকে বাঁচিয়েছিলেন স্টিভ। আইপড ও আইটিউনস মিউজিক স্টোর তাঁর কাছ থেকে পেয়েছিল বিশ্ব।

আইফোন এসেছিল তাঁর হাত ধরে
আইপডের সফলতার গল্প ফুরাতে না ফুরাতে স্টিভ জবস দুনিয়াকে বদলে দিয়েছিলেন আইফোন বাজারে ছেড়ে। ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে আইফোনের যাত্রার মধ্য দিয়ে মূলত স্মার্টফোনের যুগ শুরু। আইফোন আসার আগে কোনো মোবাইল ফোনে ক্যাপাসিটিভি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লের ব্যবহার কেউ দেখেনি। এতে শুধু গান শোনাই নয়, এতে ইন্টারনেট ব্যবহার ও মোবাইল ফোনের সব সুবিধা ছিল। আর কী চাই? অ্যাপলের সাফল্যের ধারা আইফোন এখনো ধরে রেখেছে।

অ্যাপ ইকোসিস্টেমের পথপ্রদর্শক

স্টিভ জবসকে কোম্পানি থেকে তাড়িয়ে বিপদে পড়ে গিয়েছিল অ্যাপল। ১৯৯০ সালের দিকে আবার তিনি অ্যাপলে ফেরেন। এরপর তিনি অ্যাপলকে ঘুরে দাঁড় করানোর জন্য বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেন। অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন নানা রকম পণ্য নিয়ে ক্রেতার পেছনে ছুটেছে, স্টিভ জবস তখন ইকোসিস্টেমের দিকে নজর দিয়েছেন। অ্যাপলের একটি পণ্য ব্যবহার করলে যাতে আরেকটি পণ্য ব্যবহারের দিকে ক্রেতার আগ্রহ তৈরি হয়, সে ধরনের পণ্য তৈরিতে কাজ শুরু করেন তিনি। আইম্যাক, আইপড, ম্যাকবুক, আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপল টিভি সবগুলোকে স্টিভ জবস একসূত্রে গেঁথে দিয়েছেন। ক্লাউড ও অ্যাপ স্টোরের ব্যবহারে অ্যাপলপ্রেমী তৈরি করেছেন বিশ্বজুড়ে।

নিখুঁত নকশা যাঁর ধ্যান-জ্ঞান
স্টিভ জবসের মুকুটে আরেক পালকের কথা বলা হয় তাঁর পণ্য ও সেবার মান নিয়ে। তিনি ডিজিটাল যুগের মানুষের নকশার সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগিয়েছিলেন। অ্যাপলের পণ্যগুলোকে এমনভাবে তৈরি করেছেন, যা গ্রাহকের মনে দাগ কাটে।
প্রকৃতি ভালোবাসতেন যিনি
স্টিভ জবস ছিলেন পরিবেশবান্ধব। তাঁর সময়ে অ্যাপল পণ্যগুলোকে পরিবেশবান্ধব করার বিষয়টি নিশ্চিত করতেন তিনি। উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য তাঁর কাছে বেশি পছন্দ ছিল।

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়াটাইমস, ফরচুন, কাল্টঅবম্যাক,প্রথম আলো।