ইসলামী আইন যদি বর্বর হয় তবে রোমান আইন কি শুদ্ধ?

ইসলামী শরীয়া আইন বর্বর বলে সারা দিন চেচায় তারাই আজ..সুপ্রিম কোর্টের সামনে রোমান বিচার দেবীর মূর্তী যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে তো রোমান আইন ও বিচারব্যবস্থাও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অংশ। আসুন দেখি প্রাচীন রোমান সম্রাজ্যের কিছু বিচার ব্যবস্থা।

১) গাধার ভেতরে সিলাই করে দেয়া (Sewn Into A Donkey):এটা প্রাচীন রোমে একটি শাস্তির পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে একটি গাধাকে প্রথমে হত্যা করা হতো। এরপর গাধার পেটের সমস্ত নাড়িভুড়ি বের করে দোষী ব্যক্তিকে গাধার পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে, শুধু মাথা বের করে বাকিটা সেলাই করে দেয়া হতো। এরপর জীবিত মানুষসমেত মৃত গাধাটিকে উত্তপ্ত রোদে রেখে দিলে কিছু সময় পর গাধার চামড়ার প্রচণ্ড গরমে মানুষটি জ্বলসে মারা যেতো।

২) বন্য শুকরের খাদ্যে পরিণত করা (Fed To Wild Hogs) :কম বয়সী কুমারি নারীদের এ পদ্ধতিতে শাস্তি দেয়া হতো। এ পদ্ধতিতে প্রথমে কুমারী নারীকে দাসদের দিয়ে গণধর্ষণ করানো হতো। এরপর নারীটিকে জনসম্মুখে নগ্ন করে জীবন্ত নারীটির পেট কেটে তার ভেতর থেকে সমস্ত নারীভুরি বের করে (নারীটি মারা পরতো) সেখানে বার্লি (যব) ভরা হতো। এরপর তাকেবন্য শুকরকে দেয়া হতো, এবং বন্য শুকর নারী শরীরটিকে ছিড়ে কুড়ে খেয়ে ফেলতো।

৩) লিঙ্গ কর্তন/খোজা করা (Cut Off)প্রাচীন রোমে যার র‌্যাঙ্ক যত উপরে সে নিচের র‌্যাঙ্কের লোকের সাথে ইচ্ছামত সমকামীতা করতে পারতো। কিন্তু নিজের র‌্যাঙ্কের লোকেরা উপরের র‌্যাঙ্কের লোকের সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে সমকামীতা করতে পারতো না। যেমন সম্রাট চাইলে জেনারেল, জেনারেল চাইলে লেফটেনেন্ট, সৈনিক চাইলে সাধারণ জনতার সাথে সমকামীতা করতে পারতো। কিন্তু উল্টো সম্ভব ছিলো না। উল্টো হলে নিচের র‌্যাঙ্কের পুরুষের লিঙ্ক কর্তন/খোজা করা হতো।

৪) লিঙ্গ বেধে রাখা (Or Tied Off):এ পদ্ধতে দোষী ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে মদ পান করানো হতো। এরপর তার লিঙ্গ শক্ত করে বেধে ঝুলিয়ে রাখা হতো যেন সেপ্রস্রাব না করতে পারে।

৫) মন্ত্রীদের নির্যাতন (Tortured Senator)এ পদ্ধতিতে রোমান সম্রাটরা দোষী মন্ত্রীদের শাস্তি দিতো। এক্ষেত্রে প্রথমে মন্ত্রীর বুক ও পেটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চিড়ে ফেলা হতো। এতে মন্ত্রী মারা পরতো না। এরপর তার চোখ উপড়ে ফেলা হতো। এরপর লোহার শিক গরম করে পেটের ভেতর থেকে একটি একটি অঙ্গপ্রতঙ্গ বের করে হত্যা করা হতো। সবশেষে মন্ত্রীর শরীরটাকে টুকরা টুকরা করা হতো। উল্লেখ্য প্রাচীন রোমে মৃত্যুকে শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হতো নরা। মৃত্যুকে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম মনে করা হতো। এজন্য মৃত্যুর আগে নির্যাতনের পরিমাণটুকু শাস্তি হিসেবে গণ্য করা হতো।

৬) ব্যারেলে পেরেক দিয়ে আঁটকানো (Nailed Into Barrels):এ পদ্ধতিতে ধর্মবিশ্বাসীদেরশাস্তি দেয়া হতো। প্রথমে ব্যক্তিকে প্রচুর পরিমাণে মধু ও দুধ পান করানো হতো। এরপর তাকে একটি ড্রামের মধ্যে পেরেক দিয়ে আটকানো হতো। এরপর ঐ ব্যক্তিকে বিভিন্ন পরজীবি পোকামাকড় খাবারের মাধ্যমে পেটেপ্রবেশ করানো হতো। এতে ঐ পরজীবিগুলো তার পেটের সবকিছু খেয়ে ফেলতো।

৭) জীবন্ত কবর দেয়া (Buried Alive) :সম্রাট নিরো এ পদ্ধতি নারীদের শাস্তি দিতো। যদি কোন কুমারী মেয়ে সতিত্ব নষ্ট করতো তাদের জীবন্ত কবর দিতো। অনেক সময় ব্যতিক্রম হতো। এক্ষেত্রে দোষী নারীকে নিজের কবরনিজেই খুড়তো এবং হয় তাকে শুলে চড়িয়ে হত্যা করা হতো (অপরাধ বড় হলে) অথবা শুলকে হার্ট বরাবর শুল বিদ্ধ করে হত্যা করা হতো (অপরাধ ছোট হলে)।

৮) মাঝ বরাবর খেয়ে ফেলা (Eaten Through the Middle) :এ পদ্ধতিতে দোষী ব্যক্তির পেটের উপর একটি ধাতব পাত্র স্থাপন করা হতো, যার ভেতরে থাকতো ইদুর। এ ধাতব পাত্র উপর থেকে গরম করা হতো, এতে ইদুরটা গরম সহ্য করতে না পেরে ঐ ব্যক্তির পেট বরাবর খেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতো।

৯) মৌমাছির বাস্কেট (Bee Basket) :এ পদ্ধতিতে দোষী ব্যক্তি নগ্ন করে জালের মধ্যে প্রবেশ করানো হতো। এরপর জালসমেত লোকটিকে একটি বড় মৌমাছির চাকের সাথে ঠেঁসে ধরা হতো। এতে মৌমাছিগুলো রাগান্বিত হয়ে লোকটিকে কামড়ে কামড়ে হত্যা করতো।

১০) ক্রুশ বিদ্ধ করা (Crucifixion):এ পদ্ধতিতে রোমানরা যিশু খ্রিস্টকে হত্যা করেছিলো। এ পদ্ধতিতে দোষী ব্যক্তিকে ক্রুশের সাথে পেরেক দিয়ে আটকে রাখা হতো। অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি এমনি মারা যেতো, অনেকসময় ক্রুশবিদ্ধ করে পেটানো হতো।.মজার বিষয় কি জানেন, যারা ইসলামী শরীয়া আইন বর্বর বলে সারাদিন চেচায়, তারাই আজকে রোমান বন্য আইন ও বিচার ব্যবস্থার পক্ষে সাফাই গেয়ে সুপ্রীম কোর্টের মূর্তির পক্ষে বলে চলেছে ।