অন্তর্বাসে সচেতন হোন স্লীভলেস পোষাকে ।

হাতা কাটার ফ্যাশনটা জেঁকে বসে গরমেই। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে হাতা কাটা পোষাক পরায় অন্তর্বাস বা ব্রা যেন দেখা না যায় । বেশিরভাগ সময়ই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় অনেকেরই অন্তর্বাস জামার ফাক দিয়ে বেরিয়ে থাকে এতে অনেকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে আবার অনেকে মজা নেয় । তাই পোষাকের ভেতর অন্তর্বাস পরিধানে সাবধান হওয়া উচিৎ ।


আরো দেখুনঃ
Hansika Motwani Bio with Super Sexy Hottest HD Video and Picture 

গরমের ফ্যাশুনেবল কুর্তার সাথে জিন্স লেংগিস ও পালাজ্জো । 

গরমের সময় আরামের জন্য মেয়েরা কামিজে হাতা কাটাকে প্রাধান্য দেয়। কারণ স্বস্তি। ফলে এ ধরনের কামিজের প্রতি তরুণীদের আগ্রহ এখন বাড়ছে। ফ্যাশন হাউসগুলো হাতা কাটা টপস, ফতুয়া, টি-শার্ট ইত্যাদির নতুন ডিজাইন আনলেও এবার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কামিজে। গরমের সময় পোশাক হিসেবে বেছে নিতে পারেন স্লিভলেস কামিজ। লং বা শর্ট—যেকোনোটাই হতে পারে। বিশেষ করে এই সময় পার্টি বা অনুষ্ঠানে জমকালো বা ভারী পোশাকে অস্বস্তি হয়। সে ক্ষেত্রে হাতা কাটা কামিজ স্বস্তি দেবে। ’


হাতা কাটা কামিজের কাটছাঁটেই আনা হয়েছে নানা বৈচিত্র্য, নতুনত্ব দেখা যাচ্ছে নকশায়ও। প্রাধান্য পেয়েছে নিরীক্ষামূলক কাজ। যেমনটি বলছিলেন রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার ও ডিজাইনার সৌমিক দাস। তিনি বলেন, ‘হাতা কাটা কামিজ তো আগেও ছিল, তবে সেটা ছিল প্লেইন। নকশা প্রাধান্য পেত না। ফ্যাব্রিকসই মূল বিষয় ছিল। আর এখন নকশা ফ্যাব্রিকস ও কাটিং প্যাটার্ন—তিনটি সমান গুরুত্ব পাচ্ছে।


এখনকার কামিজের ঝুলে ওঠা-নামা আছে। কামিজের পেছনে লম্বা রেখে সামনে খানিকটা খাটো ঝুল, দুই কোনায় বেশি ঝুল, ওভাল আকৃতি, ত্রিভুজ আকৃতি, দুই দিকে কলি দিয়ে মাঝখানে সোজা ইত্যাদি প্যাটার্নে তৈরি হচ্ছে। আগে কামিজে পকেটের কোনো বালাই ছিল না। এখন সামনে ভিন্ন রঙের কাপড়ে ছোট্ট এক বা একাধিক পকেট জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। ঘেরও কিছুটা কমে এসেছে, তবে কুঁচির ব্যবহার আছে।

 


গরমের কথা মাথায় রেখেই আরামদায়ক ফ্যাব্রিকস ব্যবহার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুতির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চলছে লিনেন, হাফ সিল্ক, ধুপিয়ান ও বলাকা সিল্ক কাপড়। নকশায় অ্যাজটেক বা এনিম্যাল প্রিন্টের চেয়ে ফ্লোরাল প্রিন্ট, টাইডাই ও গামছা মোটিফের ব্যবহার বেশি। সুঁই-সুতার কাজও নজর কাড়ছে



কাপড়-ই-বাংলার কর্ণধার মোরসালিন আহমেদ বললেন, ‘আগে কামিজের বুকে কিংবা পিঠেও হরেক রকমের বোতামের ব্যবহার দেখা যেত। এখন বোতাম একেবারে উঠে গেছে তা বলা যাবে না। তবে বেশির ভাগ কামিজে বোতামের বদলে জিপারের ব্যবহার করা হয়েছে।

সেমিলং ও ফ্রক আকৃতির কামিজের ট্রেন্ড চলছে এখন। কলিদার এই কামিজগুলো তৈরি করা হয়েছে নানা ছাঁটে। প্রতিটি কলিতে ভিন্ন রং ও নকশার ব্লকপ্রিন্টের ব্যবহার এনেছে অভিনবত্ব। কম নকশার কামিজে জমকালো বোতাম ও ব্রোচের ব্যবহার করে আকর্ষণীয় করা হচ্ছে। গলায় হালকা কাজও রয়েছে। গলার নিচে কামিজের বডির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরপর দু-তিনটি ভিন্ন রঙের কাপড় ব্যবহার করে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। এক রঙের পাশাপাশি কয়েকটি রঙের সমন্বয়ে বর্ণিল হয়ে উঠেছে কামিজ। গোল গলা, ত্রিভুজাকার গলা, হাইনেক বা পাঞ্জাবি কলারই সাধারণত ব্যবহৃত হয় হাতা কাটা কামিজে। ’ হাইনেক, রাউন্ড ও ভি-গলার কামিজও আছে। হাতা থাকলে যেখানে জোড়া দেওয়া হতো, সেখানে লেস-ফিতার বর্ডার কিংবা ভিন্ন রঙের চিকন পাইপিন জুড়ে দেওয়া হয়েছে।


যাঁদের হাতের গড়ন ভারী, তাঁরা হাতা কাটা কামিজের কাঁধের অংশ একটু চওড়া করে নিন। সঙ্গে পেছনের দিকে ওঠানো গলা থাকলেও ভালো। চাইলে কাঁধ থেকে এক বা দেড় ইঞ্চি পরিমাণ চওড়া ছোট ম্যাগি হাতাও পরতে পারেন। যাঁরা মাঝারি গড়নের, তাঁরা কাঁধ উঁচু ও বন্ধ গলার পোশাকটি হাতা কাটা পরতে পারেন। যাঁদের হাতের গড়ন বেশি চিকন, তাঁরাও চওড়া কাঁধের হাতা কাটা কামিজ পরুন


বাজারে বিভিন্ন রকমের হাতা কাটা কামিজ থাকলেও মোটামুটি তিন ধরনের হাতা কাটাই জনপ্রিয়। ডিজাইনার লিপি খন্দকার জানালেন, ‘নরমাল স্লিভলেস, ম্যাগি হাতা আর হল্টার নেক বেশ চলছে। নরমাল স্লিভলেসের নকশা একেবারেই সাধারণ, শুধু হাতা থাকে না। আর ম্যাগি হাতা হচ্ছে হালকা হাতা, কাঁধ থেকে সামান্য একটু বাড়ানো থাকে মাত্র। তবে ঠিক হাতা বলা যায় না, কাপড়ের বাড়তি অংশ আর কি। হল্টার নেকে একদম হাতার অস্তিত্ব নেই। বুকের ওপর থেকে দুটি ফিতা চলে যায় গলার পেছনে। শুধু ফিতা বেঁধে রাখলেই হয়। এ তিন হাতা কাটার বাইরেও আছে স্প্যাগেটি, ক্যামিসোল, টিউব ও কাট অব টপস। ফ্যাশন ডিজাইনার তানিয়া কাউসারী জানান, ‘হাতা কাটা কামিজের সঙ্গে পালাজ্জো, জিন্স কিংবা লেগিংস—সবটাই মানিয়ে যাবে। আর ওড়না ছড়িয়ে না পরে একপাশে কিংবা গলায় জড়িয়ে পরলে ভালো লাগবে। নির্ভর করবে যে পরবে তার রুচি আর স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর। ’

খেয়াল রাখতে হবে

হাতা কাটা কামিজ পরলে হাতের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত মোটা বা চিকন হাতেও হাতা কাটা না পরাই ভালো। হাতা কাটা পোশাক পরা চর্চারও বিষয়। কারণ পরার পর স্বাচ্ছন্দ্যের ব্যাপার থাকে। তা ছাড়া হাতের গড়ন অনুযায়ী কামিজ বেছে নিতে হয়। যাঁদের হাতের গড়ন ভারী, তাঁরা হাতা কাটা কামিজের কাঁধের অংশ একটু চওড়া করে নিন। সঙ্গে পেছনের দিকে ওঠানো গলা থাকলেও ভালো। চাইলে কাঁধ থেকে এক বা দেড় ইঞ্চি পরিমাণ চওড়া ছোট ম্যাগি হাতাও পরতে পারেন। যাঁরা মাঝারি গড়নের, তাঁরা কাঁধ উঁচু ও বন্ধ গলার পোশাকটি হাতা কাটা পরতে পারেন। যাঁদের হাতের গড়ন বেশি চিকন, তাঁরাও চওড়া কাঁধের হাতা কাটা কামিজ পরুন। গলাটা ওঠানো হলেই ভালো দেখাবে। চিকন কাঁধের হাতা কাটা কামিজ কম বয়সী মেয়েদেরই বেশি মানায়। ’ ফেমিনার রূপবিশেষজ্ঞ অঞ্জলি মোস্তফা বলেন, ‘হাতা কাটা পোশাক পরলে হাত যেন লোমহীন, পরিষ্কার ও নরম কনুইয়ের হয়। শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় হাতের ত্বকের রং গাঢ় হয়।


হাতা কাটা কামিজ পরার আগে হাতের জন্য বাড়তি পরিচর্যার দরকার। সপ্তাহে অন্তত এক দিন পুরো হাতের যত্ন নিন। রোদে হাতা কাটা পরলে সার্নবান হয়। তাই হাতে সানস্ক্রিন মাখতে হবে। রোদ থেকে ফিরে হাতে টক দই বা পাকা টমেটো মেখে শুকিয়ে ধুয়ে ফেলুন; এতে রোদে পোড়া ভাব কেটে যাবে। যাদের হাত ও বাহুতে রোদে পোড়া দাগ রয়েছে, তাঁরা কাগজি লেবু খানিকক্ষণ ঘষে ধুয়ে ফেললে উপকার পাবেন। হাতা কাটা পোশাক পরার আগে অবশ্যই ওয়াক্স করে নিন।


হাতের ত্বক উজ্জ্বল দেখাতে ফেয়ারপলিশও করাতে পারেন। মনে রাখবেন যেকোনো অনুষ্ঠানে হাতা কাটা কামিজ পরলে মুখের সাজের সঙ্গে হাতকেও খানিকটা সাজাতে হবে। এ ছাড়া অন্তর্বাসের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হয়। এটি যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয় এবং হাতের পাশ দিয়ে বেরিয়ে না যায়।