Paypal Comes To Bangladesh (Pros n Cons) | পেপাল বাংলাদেশে (সুবিধা ও অসুবিধা)

Paypal Comes To Bangladesh (Pros n Cons). | পেপাল বাংলাদেশে আসছে । এর সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে কিছু কথা । 

কথায় আছে যত সুবিধা তত অসুবিধা । পেপাল বাংলাদেশে আসছে । আমাদের দেশের ফ্রি-ল্যান্সারদের অনেক দিনের আশা ও স্বপ্ন পূরন হতে চলেছে । কিন্তু পেপাল বাংলাদেশে আসলে কিছু মানুষ যেমন লাভবান হবেন তেমনি কিছু মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবেন । দেশের অসংখ্য বেকার তরুন তরুনী যারা অনলাইন বিজনেস চালু করে আজ স্বাবলম্বি । তারা অনলাইনে বিভিন্ন সেবা দিয়ে মানুষকে সাহায্য করেন যা আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্রসেসর নেই বলে আমাদের দেশ থেকে অনলাইনে নেয়ার সুবিধা নেই বললেই চলে । পেইজা , নেটলার , পাইওনিয়ার থাকলেও এগুলো যেমন সহজ লভ্য নয় তেমনি অনেক কম্পানি এগুলো সাপোর্ট করেনা ।


➱কিছু ই-কমার্স ক্ষেত্র যা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারেঃ
  1. ডোমেইন হোষ্টিং বিজনেস
  2. এসইও সার্ভিস 
  3. ইলেক্ট্রনিক পন্যের অনলাইন বিজনেস
  4. দেশীয় এড নেটওয়ার্ক 
  5. অন্যান্য পেমেন্ট প্রসেসর গুলো 
  6. ডলার বিজনেস 
Read More:

১) ডোমেইন হোস্টিং বিজনেসঃ বর্তমানে কম পুঁজিতে ব্যাবসা করার সবচাইতে ভাল একটা মাধ্যম হল ডোমেইন, হোষ্টিং , এসএসএল সার্টিফিকেট ইত্যাদি সার্ভিস । আমাদের দেশের অনেকেই এই বিজনেস করে সফলতা পেয়েছেন । আমাদের দেশে রয়েছে অনেক স্বনামধন্য কম্পানি যারা বিশ্বস্ততার সাথে সেবা দিচ্ছেন । যেমন হোষ্টমাইট, হোষ্টএনয়ার, হোষ্টপেয়ার, নেটকন ইত্যাদি । কিন্তু এখন তাদের কপাল কুঁচকানোর সময় এসেছে । এতদিন তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করলেও এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বনামধন্য কম্পানি যেমন গোড্যাড্ডি, নেমচিপ, ব্লুহোষ্ট ইত্যাদির সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে । যা খুবই কঠিন হবে ।

২) এসইও সার্ভিসঃ বিভিন্ন এসইও সার্ভিস আছে যারা ওয়ার্ল্ডে এসইওর জন্য বিখ্যাত । যেমন এট্রাক্টা এসইও , ম্যাজেস্টিক এসইও ইত্যাদি । অনেকেই অনলাইনে পেমেন্ট করতে পারতেন না বলে দেশিয় কিছু এসইও মাষ্টার দ্বারা করাতেন । যা অনেকের কাছেই ব্যায়বহুল । আবার এই ফাঁকে ছাতার মত গজিয়ে উঠেছে ভুয়া এসইও প্রতিষ্ঠান । যেখানে অনেকেই প্রতারিত হবার খবর পাওয়া গেছে । তাই নিঃসন্দেহে ব্যাবসায়িরা এখন অয়েলনোন কম্পানি থেকেই এসইও করাতে চাইবেন ।

৩) ইলেক্ট্রনিকসের অনলাইন সেবাঃ বর্তমান বাজারে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স যেমন উদাহরন স্বরুপ বলাযায় আইফোন । আইফোন বের হলেই আমাদের দেশে পাওয়া যায়না । গেলেও কয়েক মাস পরে । এই ফাঁকে বিভিন্ন কম্পানি যেমন আজকেরডিল, দারাজ ইত্যাদি অনলাইন প্রতিষ্ঠান গুলো নতুন ভার্শনের আইফোন এনে বেশ ভাল দামেই বাজারজাত করতেন । কিন্তু এখন আর সেই সুযোগ টি থাকছেনা ।

৪) এড নেটওয়ার্কঃ বাংলাদেশে এড নেটওয়ার্ক খুব বেশি না থাকলেও বিভিন্ন কম্পানি কিন্তু খারাপ ব্যাবসা করছে না । যেমন, GreenRed, Wap4Dollar, Glossyads, ইত্যাদি সাইট খুব ভালই ব্যাবসা করেছে । অন্যান্য আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের তুলনায় এদের CPC, PPC , Impression রেট খুবই কম । বলতে গেলে একেবারেই নগন্য । তাই পেপাল এলেই সবাই ঝাপিয়ে পড়বে বিশ্বস্ত এড নেটওয়ার্ক থেকে টাকা আয়ের পেছনে । তখন খুবই হুমকির মুখে পড়বে দেশিয় এডভার্টাইজিং সংস্থা গুলো ।

৫) অন্যান্য পেমেন্ট প্রসেসরঃ বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল পেমেন্ট সিষ্টেম অনলাইনে বেশ জনপ্রিয় । বিকাশ , রকেট (ডাচ বাংলা) , এমক্যাশ , ইউক্যাশ ইত্যাদি বেশ জমিয়ে বিজনেস করছে । বিশেষ করে অনলাইনে কিছু ক্রয় করতে হলে এগুলোর বিকপ্ল নেই । পেপাল এলেই অন্তত অনলাইনে এদের ব্যাবসায় কিছুটা টান পড়বে ।

৬) ডলার বিজনেসঃ এখন বর্তমানে যারা অনলাইনে কাজ করে তাদের বিভিন্ন দেশীয় বায়ার দের থেকে ডলার কিনতে ও বিক্রি করতে হয় । কিন্তু তারা ডলার বিক্রির সময় ৫-১০ টাকা বাড়তি ও ক্রয়ের সময় ৫-১০ টাকা কম রেট দেয় । এতে সাধরন ক্রেতা বিক্রেতাদের যেমন ক্ষতি হয় আবার তেমনি অনেকেই আবার ভন্ডামি করে মানুষকে ধোকা দেয় । এতে প্রতিনিয়তই মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে । পেপাল সোনালী ব্যাংকের সাথে যুক্ত হলে শিউর ক্যাশের মাধ্যমেই ডলার লোড ও উইথড্রো করা যাবে । এতে ডলার বিজনেস ব্যাবসাটাই লাটে উঠবে ।




⇛এছাড়াও আরো কিছু অসুবিধা থাকতেই পারে তবে আমার মতে এগুলোই মুখ্য । কিন্তু সুবিধা যে বেশি তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা । বস্তুত ব্যাবসায়িদের কিছুটা সমস্যা হলেও সাধারন মানুষ লাভবান হবে এটা কিন্তু সত্যি । আমাদের দেশের ফ্রি-ল্যান্সিং , আউটসোর্সিং, এফলিয়েট মার্কেটিং সহ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রেই জনগন সফলভাবে কাজ করতে পারবে । পেমেন্ট নিয়ে কোন প্রকার ঝামেলা হবে না ।

তো বন্ধুরা , কেমন লাগলো আজকের পোষ্ট । ভাল খারাপ যাই লাগুক কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না ।