সুগন্ধি ব্যবহারের চমৎকার কিছু টিপস জেনে রাখুন!


ঘামের বাজে গন্ধটা নাকে আসতেই চোখমুখ কুঁচকে গেল। ভদ্রতা করে মনে মনে বলছেন, ‘একটু পারফিউম দিয়ে এলে কী এমন ক্ষতি হতো!’ যাকে নিয়ে ভাবা, তিনি কিন্তু ঠিকই ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সুগন্ধি মেখে বের হয়েছেন। প্রচণ্ড গরমে ঘামের কারণে সেই সুগন্ধ এখন অনেকটাই দুর্গন্ধে পরিণত হয়েছে। গরমের এই সময়টাতে পারফিউম ব্যবহারের প্রবণতা বেড়ে যায়।


কিন্তু লাগানোর জায়গা ও কায়দা ভুল হওয়ায় সুগন্ধি বেশিক্ষণ থাকে না। ব্রিটিশ পারফিউম বিশেষজ্ঞ রুথ মাসটেনব্রোয়েক গবেষণা করে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গার কথা বলেছেন। যেসব জায়গায় পারফিউম লাগালে সেটা সারা দিন সুরভিত করে রাখে। তবে এর বাইরেও টুকটাক কিছু ‘কারসাজি’ আছে। পদ্ধতিগুলো অনুসরণে অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার করতে হবে না। বরং অল্প পরিমাণ পারফিউম দিয়েই সুরভিত থাকবেন অনেকক্ষণ।



কোথায় ব্যবহার করবেন: 

সুগন্ধি ব্যবহার করার কিছু জায়গা আছে। নির্দিষ্ট এই জায়গাগুলোতে সুগন্ধি ব্যবহার করলে অনেকক্ষণ ধরে প্রিয় গন্ধ ঘিরে রাখবে আপনাকে। শরীরের পালস পয়েন্টগুলো পারফিউম দেওয়ার জন্য আদর্শ জায়গা। কব্জি, কনুইয়ের ভেতরের অংশ, কলার বোন, হাঁটুর পেছনে, পায়ের গোড়ালি, নাভির কাছে, কানের পেছনে পারফিউম লাগালে সেই গন্ধটা স্থায়ী হয় বেশ কিছুটা সময়। মজার কথা হলো, চুলে পারফিউম লাগালে সেটা বেশ ভালো কাজে দেয়। সরাসরি স্প্রে না করে চিরুনিতে পারফিউম স্প্রে করুন। এবার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নিন।



রাত ও দিনের সুগন্ধি: 

কিছু কিছু পারফিউম নির্দিষ্টভাবে ব্যবহার করা হয় রাত ও দিনের জন্য। দিনের বেলায় তুলনামূলক ভারী সুগন্ধিগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। রাতের বেলায় হালকা। কারণ, দিনের বেলায় অনেকটা সময় ধরে সুগন্ধির প্রয়োজন।


 গোসলের পরপরই ব্যবহার করুন: 

গোসলের সময় রোমকূপগুলো খুলে যায়। এ কারণে গোসলের পরপরই পারফিউম ব্যবহার করা হলে রোমকূপগুলো সুগন্ধ অনেকাংশেই টেনে নেয়। সুগন্ধি এ কারণে অনেকক্ষণ ধরে থেকে যায়। ময়েশ্চারাইজার করে নিন: পারফিউম দেওয়ার আগে হাতে পায়ে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে নিন। কারণটা হলো, ত্বক খসখসে থাকার বদলে যদি মসৃণ আর নরম থাকে, তাহলে পারফিউম নিজের মধ্যে টেনে নেয় অনেকক্ষণের জন্য।



কাপড়ের ওপরে নয়: 

কাপড়ের ওপরে নয়, বরং শরীরের পালস পয়েন্টগুলোতে পারফিউম ব্যবহার করুন। কাপড়ের ওপরে পারফিউম ব্যবহারে অনেক সময় দাগ বসে যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।  দূরত্ব বজায় রাখুন: পারফিউম দেওয়ার সময় শরীর থেকে ৫-৭ ইঞ্চি দূরত্ব বজায় রাখুন।  লেপন বা ঘষা নয়: পারফিউম দেওয়ার পরে এটাকে আপনা থেকেই শুকাতে দিন।

 অনেকে হাতের কব্জিতে পারফিউম দিয়ে কাপড় বা শরীরের অন্য কোনে অংশে ঘষেন। এটা করার প্রয়োজন নেই। আঙুল দিয়ে পারফিউমের ভেজা অংশ ঘষারও মানে হয় না। এতে গন্ধ অনেকটাই কমে যায়।  পরিমাণে কম ব্যবহার করুন: বেশি পরিমানে পারফিউম ব্যবহার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। সঠিক জায়গায় অল্প পরিমাণে ব্যবহার করুন। দরকার হলে চার-পাঁচ ঘন্টা পরপরও কিছুটা পারফিউম দিয়ে নিতে পারেন।




সুগন্ধে সতেজ: 

দেখা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, কেবল ঘ্রাণ নেওয়া যাবে। বাইরে বের হওয়ার আগে এটি ব্যবহার না করলে আপনি তৈরি হয়েও যেন ঠিক তৈরি নন, কী যেন একটা বাদ থেকে যাচ্ছে বলে মনে হবে। জি পাঠক, ঠিক ধরেছেন, সুগন্ধির কথাই বলা হচ্ছে। যেটি ছাড়া সাজ অথবা সজীবতা কোনোটাই পরিপূর্ণতা পায় না। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রাচীন ভারতে বহুকাল আগে থেকেই মঙ্গলজনক এবং আড়ম্বরপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানে স্নান করে গায়ে সুগন্ধি মাখার রেওয়াজ ছিল।

এটিকে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবেও ধরা হতো সে সময়। মুঘল রানি নুরজাহান গোলাপের তেল ও গোলাপজল দিয়ে গোসল করতেন। সুগন্ধি শিল্পের বিস্তারে তাঁর ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে জানা যায় ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে। তবে সুগন্ধি এখন আর কেবল বিশেষ দিনে ব্যবহারের কোনো বিলাস পণ্য নয়, এটি বর্তমানে রোজকার অপরিহার্য এক প্রসাধনীতে পরিণত হয়েছে। সুগন্ধির ব্যবহার ও বাছাইয়ের নিয়ম জানিয়েছেন পারফিউম ওয়ার্ল্ডের ব্র্যান্ড ব্যবস্থাপক তানভীর আলম এবং রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিন।



কোথায় কেমন সুগন্ধি: 

রূপবিশেষজ্ঞ তানজিমা শারমিনের পরামর্শমতে, সুগন্ধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সময়, স্থান ও ব্যক্তিত্ব বিবেচ্য। এটি নির্ভর করে নিজের রুচির ওপরও। কর্মস্থলে বা কোনো চাকরির সাক্ষাৎকারে কড়া সুগন্ধি এড়িয়ে যেতে হবে। সারা দিন সজীবতা বজায় রাখতে মৃদু ঘ্রাণের কোন সুগন্ধি ব্যবহার করুন। এটি যেমন আপনাকে স্নিগ্ধ রাখবে তেমনি আশপাশের মানুষের কাছেও হয়ে উঠবে আপনার সুরুচির পরিচায়ক। দিনের বেলায় মৃদু ঘ্রাণের যেমন লেবু বা কোনো ফুলের ঘ্রাণের সুগন্ধি ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতের জমকালো দাওয়াতে একটু কড়া কোনো সৌরভ বেছে নিতে পারেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন অন্যের অস্বস্তির কারণ না হয়।

 সুগন্ধি ভীষণ পছন্দ অভিনেতা সজল নূরের। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে আছে সাড়ে তিন শরও বেশি সুগন্ধি। কথা হলো তাঁর সঙ্গে। জানালেন, সাধারণত কড়া ঘ্রাণের সুগন্ধিই তাঁর পছন্দ। সারা দিন শুটিংয়ে থাকলে কড়া সুগন্ধিই তাঁকে তরতাজা রাখে। ঘরোয়া কোনো আড্ডায় যাওয়ার আগে বেছে নেন হালকা সুবাসের কোনো সুগন্ধি। তা ছাড়া মনমেজাজের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। সব সময় যে সুগন্ধিগুলো ব্যবহার করেন, মন খারাপের দিন সেগুলো থেকে বেছে না নিয়ে এমন কোনো সুগন্ধি বেছে নেন, যা হয়তো সাধারণত ব্যবহারই করা হয় না, বললেন সজল।

Previous
Next Post »